‘গোপন বৈঠক থেকে গ্রেফতার’ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

Published: Updated:

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকের সময় গ্রেফতার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার হালিশহর থানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকার “তায়েফ” নামের একটি রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠককালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিল।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হয়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর চেষ্টায় ছিল তাদের।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাতে নগরের নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় তায়েফ নামের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় গ্রেফতার ১৪ জন ছাড়াও ৯০ থেকে ৯৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- মো. শহিদুল ইসলাম (৩৭), মো. নয়ন (১৯), মেহেদী হাসান সোহান (২১), মো. ইব্রাহীম (২৪), সাজ্জাদ হোসেন রাকিব (২৪), মো. ইসমাইল (২৬), রবিউল ইসলাম রাজু (২০), মো. সাকিল খান (২০), মো. রাজিব (২৯), মো. আশরাফুল (১৯), জাহেদ হোসেন (৩৪), মো. আরিফ (২৫), মো. রাফি (২০) ও ইমাম হোসেন (৩০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদের প্রধান সংগঠক। বৈঠকে দেশের বাইরে অবস্থানরত দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এসব ফোনে শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ, চট্টগ্রাম উত্তর ও ফেনী জেলা শিরোনামের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পাওয়া যায়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রেফতার অন্য আসামিরাও এসব গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং তারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

You may also like