যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরান তা পর্যালোচনা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, খবর আল-জাজিরা’র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব পেয়েছে তেহরান। তা এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, ইরানের দেওয়া এই পরিকল্পনাটি কেবল যুদ্ধ অবসানের বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই পর্যায়ে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ রাখা হয়নি।
পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে মোটা দাগে তিনটি ধাপ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধবিরতিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানে রূপান্তর করা। এই প্রস্তাবে ইসরায়েলকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো যুদ্ধ ফিরে না আসে এবং পুরো অঞ্চলে লড়াইয়ের অবসান ঘটে।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণের দায়িত্ব তেহরান নিজে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রস্তাবের দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ইরান পুনরায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। তবে এটি করা হবে ‘জিরো-স্টোরেজ’ বা মজুত না রাখার নীতি মেনে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো হামলা চালাবে না। বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর সব ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকবে।ইরানের পরমাণু অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা কোনো স্থাপনা ধ্বংস করার দাবি এই প্রস্তাবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে তেহরান তাদের আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।