সাইফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরে অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের অভিযোগে বায়েজিদ হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত বায়েজিদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
কারাদণ্ডের পর তাঁকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বায়েজিদ আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সপরিবারে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকায় বায়েজিদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের বিষয়টি পরদিন বুধবার রাতে প্রকাশ্যে আসে।
অভিযানকালে কারখানাটিতে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণেরও তথ্য পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র আরও জানায়, বায়েজিদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন বলেন, ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে দলের নেতার কারাদণ্ডের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান বলেন, দলের কোনো সদস্য অন্যায় বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ অন্যায় করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেব এবং বিষয়টি কেন্দ্রে জানাব।’