১৭ বছর পর ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। পেরিয়ে গেছে প্রায় সাত মাস। অথচ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংগঠনিক ইউনিট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে নেই কোনো কমিটি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও নির্যাতনের পরও কেন মিলছে না সাংগঠনিক কাঠামো? কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দ্রুত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি দেওয়ার দাবি উঠেছে।
বিএনপির এই সুদিনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপিতে রাজপথের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে মূল্যায়নের দাবি উঠছে তৃণমূল থেকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলের দুঃসময়ে মাঠ ছাড়েননি এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে তাদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশা এখন তৃণমূলের।
এমন আলোচনায় উঠে আসছে রাউজানের সংগ্রামী নেতা জসিম শিকদারের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় থাকা জসিম শিকদার রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
জসিম শিকদার চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকাকালীন তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় নানা চড়াই,উতরাই, মামলা,হামলা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি।
বিশেষ করে গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের রাজপথে জসিম শিকদারের সক্রিয় ভূমিকা ছিলো। আন্দোলনের কঠিন সময়ে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জসিম শিকদার। সে সময় রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে দলের প্রার্থী হিসেবে থাকা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া তার রাজনৈতিক দৃঢ়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন তার অনুসারীরা।
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে জসিম শিকদারের মতো নেতারা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠনকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলকে আরও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী, গতিশীল ও উজ্জীবিত করতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
তাদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং দলের কঠিন সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন সেই রাজনৈতিক ইতিহাসও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ছাত্রদলের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকার কারণে জসিম শিকদারের মতো পরীক্ষিত নেতাদের দলীয় মূলধারায় আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। তাদের মতে, ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে সামনে এনে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির তৃণমূল সংগঠন আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় রাজপথে থাকা এই নেতার এখন প্রত্যাশা দলের সুসময়ে দুঃসময়ের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হবে। আর সেই মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আগামী দিনের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত হবে।