পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের পদায়ন বাতিল, অভিযোগের তীর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রতনের দিকে

Share

সাইফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি

২০১৮ সালে সরকারি হওয়ার পর থেকেই নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষের পদটি কার্যত শূন্য ছিল। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে উপাধ্যক্ষই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ সময় কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আকবর আলী ২২তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন।
পদায়নের পর ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তবে ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এরপরই নতুন করে তৈরি হয় জটিলতা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপরতা চালানো হচ্ছিল। এরই মধ্যে ১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তার ২৭ সেপ্টেম্বরের পদায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
পদায়ন বাতিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পূর্বধলা সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ঘিরে নানা অভিযোগ
কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা আনোয়ারুল হক রতনের সময়ে কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম হয়েছে। কলেজের আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কলেজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার অভিযোগও রয়েছে। আরো অভিযোগ রয়েছে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, এবং বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা ৫ আসনের বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থীর সাথে হাত মিলিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ বাতিল করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় কলেজের প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন একজন নতুন অধ্যক্ষকে পদায়নের পর তিনি যোগদান করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পদায়ন বাতিল হওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্য ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কেন বাতিল হলো অধ্যক্ষের পদায়ন?
স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আকবর আলীর মতো একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়নের পর কেন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সেই পদায়ন বাতিল করা হলো?
কোন প্রক্রিয়ায় এবং কী কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন পূর্বধলার সাধারণ মানুষ।
তাদের দাবি, পূর্বধলা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দ্রুত স্থায়ী অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কলেজের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তদন্ত ও পদায়ন বহালের দাবি
পূর্বধলার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের একটি অংশ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ২৭ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ হিসেবে আকবর আলীর যে পদায়ন হয়েছিল, সেটি কেন বাতিল করা হলো তার ব্যাখ্যা চেয়ে পদায়ন পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ আট বছর পর একজন স্থায়ী অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পরও কেন সেই পদায়ন বাতিল হলো, আর কোন প্রক্রিয়ায় একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই বারবার কলেজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছেন?

Related Articles

জাতিসংঘে ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

সাইফুল ইসলাম. নিজস্ব প্রতিবেদক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান ও...

জাতিসংঘের বাইরে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ১০০

সাইফুল ইসলাম. নিজস্ব প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী...

বাংলাদেশে তৈরি ‘হোন্ডা’ যাবে মেক্সিকোতে

Shimul Islam, Multimedia Reporter 2026/09/25 at 12:25 pm দেশে তৈরি হোন্ডা মোটরসাইকেল...

কানাডায় টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল: বিশ্বসিনেমার বর্ণাঢ্য আয়োজন

শিমুল ইসলাম, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কানাডার সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র টরন্টো শহর এখন পুরো বিশ্বচলচ্চিত্রের...