সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজারে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান রামিম মিয়া (৫০)। পেশায় শ্রমিক রামিম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার আলিমুদ্দিনের ছেলে। বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মঞ্জুরুল আলম।
এর আগে রবিবার সকাল ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই নির্মাণশ্রমিক। আহত হন আরও ছয় জন।
নিহত বাকি আট জন হলেন- সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও গ্রামের বদরুল (৩০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মৃত ইদ্রিসের মেয়ে নার্গিস আক্তার (৪৩), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলার আব্দুল গফফারের দুই ছেলে আজির উদ্দিন (২৫) ও আমির উদ্দিন (২২), দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত করম আলীর ছেলে মো. নুরুজ আলী (৫৫), একই উপজেলার সেচনি গ্রামের বশির মিয়ার মেয়ে মনি বেগম (২৯), নুরনগরের মৃত নূর ইসলামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫), কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের কুটির বিশ্বাসের ছেলে পান্ডব বিশ্বাস (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে তেলিবাজার এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাঁঠালবোঝাই ট্রাক ও শ্রমিকবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারীসহ আট নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও সাত জন। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে রামিম মিয়ার মৃত্যু হয়। বাকিরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে থেকে ১৫ জন ঢালাই শ্রমিক একটি পিকআপে করে ওসমানী নগরের দয়ামীরের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল সিমেন্ট মিক্সার মেশিনও। পিকআপটি তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তখন পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে মারা চার জন। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চার জনের মৃত্যু হয়। রাতে মৃত্যু হয় আরেকজনের। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন হেলপার। হেলপার ঘুমে ঝিমিয়ে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে ২০২৩ সালের ৭ জুন সকালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নাজির বাজার এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। তারাও একই এলাকায় কাজে যাচ্ছিলেন।