ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করার জন্য সামরিক-বেসামরিক নানা রকম পরিকল্পনা হয়েছিল।
সোমবার “মানচিত্র” ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন আবার শোনা যাচ্ছে যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সাবেক উপদেষ্টারা কোন কিছু করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসের কথায় ছাত্রদের দল (জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি) হয়েছে, কারণ তিনি ভেবেছিলেন ছাত্রদের একটা দল থাকা দরকার।
“এই বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেমেয়েদেরকে সেনাবাহিনী প্রটোকল দিচ্ছে, পুলিশ প্রটোকল দিচ্ছে…এগুলো কি টেকে? পৃথিবীর কোথাও কি টেকার কথা? এগুলো হচ্ছে…মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিও পলিটিক্যাল স্বার্থকে হাসিল করার জন্য সরকারবিরোধী পক্ষকে পুঁজি করে ছাত্রদের নানারকম ট্রেনিং দিয়েছে। এখন আমরা নানান রকম তথ্য পাচ্ছি—লন্ডন, থাইল্যান্ড, ইউনাইটেড আরব আমিরাত সহ বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করানো হয়েছে, ট্রেনিং দেয়া হয়েছে, নানারকম পরিকল্পনা হয়েছে।”
সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, ডিপস্টেট তাদেরকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে বলেছিল। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কার্জন বলেন, “এখানে আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি।”
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন দলে টানার চলমান প্রতিযোগিতা এবং “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের” মতো রাজনৈতিক খেলা প্রসঙ্গে এই আইনের শিক্ষক বলেন, আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগই থাকবে।
মোস্তফা ফিরোজের সাক্ষাৎকারঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আইন বুমেরাং হবে
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রতিউত্তরে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ঠ্যাকা পড়েছে এনসিপিতে যোগদানের জন্য!”
তিনি প্রশ্ন করেন, এনসিপি নিজেই যখন বিলুপ্ত হবার পথে, তখন “তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সার্টিফিকেট দেয়ার কে? এনসিপি বড়জোর এক পারসেন্ট মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে। আর আওয়ামী লীগ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগই থাকবে।”

২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট সংবিধান হাতে নিয়ে আদালতে অধ্যাপক কার্জন
তিনি বলেন, এনসিপি নামে তারা যে রাজনৈতিক দলটি গঠন করেছে, তাদের পরিপক্কতা বাংলাদেশ কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার দেশে রাজনৈতিক দলের মতো নয়।
“[এটা] চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশের মানুষ কখনো কিংস পার্টি পছন্দ করে না। এর আগেও কিংস পার্টি এসেছে। এনসিপির ধরনটাই কিংস পার্টি,” যোগ করেন অধ্যাপক কার্জন, যিনি ইউনূস সরকারের রোষানলে পড়ে ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে গ্রেফতার হন।
এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধ্যাপক কার্জন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেয় পুলিশ। তিন মাস পর ২৮ নভেম্বর অধ্যাপক কার্জন কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।