“মধুমাস” জ্যৈষ্ঠ শুরু হতে আরো ১১ দিন বাকি। এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাজারে রসালো ফল লিচু সীমিত আকারে উঠতে শুরু করেছে। তবে, বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় এসব লিচুর দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
মৌসুমের একেবারে শুরুতে হওয়ায় এসব লিচুতে এখনো পুরো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে ওঠা লিচুগুলো হালকা মিষ্টি ও টক স্বাদের।
চিকিৎসকরা মানুষকে খালি পেটে লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং বিশেষ করে শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলছেন, খবর বাসস-এর।
মৌসুমের শুরুতে নগরীর তালাইমারী এলাকার দিনমজুর রহিম মিয়া দোকানে লিচুর দাম জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু দাম শুনে তিনি আর কেনেননি। দৈনিক ৬০০ টাকা আয় করা রহিম মিয়া বলেন, তার পক্ষে লিচু কেনা প্রায় অসম্ভব। কারণ, ১০০টি লিচুর দাম প্রায় ৫০০ টাকা।
রহিম মিয়া বলেন, লিচু কিনলে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে যাবে। এ কারণে তিনি লিচু না কিনেই বাড়ি ফিরে যান।
রাজশাহীর বাজারে লিচুর দাম বেশি হওয়ায় রহিম মিয়া একা নন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত বহু মানুষ একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
মৌসুমের একেবারে শুরুতেই রাজশাহীতে লিচুর দাম তুলনামূলক অনেকটাই বেশি। দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র গরম এবং কম ফলন হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম।
আরো পড়ুনঃ সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহের সময়সূচি ঘোষণা
শহরের সাহেব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি লিচু ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০টি লিচুর দাম প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
বাজার সূত্রে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে লিচুর দাম সাধারণত বেশি থাকে। তবে এ বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দাম আরো দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। এটি মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বিক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং প্রচণ্ড গরম লিচু উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফল সঠিকভাবে বড় হয়নি। এছাড়া খরার কারণে অনেক লিচু পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফেটে গেছে। ফলে বাজারে বিক্রয়যোগ্য ফলের পরিমাণ কমে গেছে।
শহরের শিরোইল এলাকার বাসিন্দা পারভেজ একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, লিচু এখনো পুরোপুরি পাকা হয়নি। কিন্তু দাম অনেক বেশি। তিনি ১০০টি লিচু কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫০ টাকার লিচু কেনেন।
সাহেব বাজারের বিক্রেতা হায়দার আলী বলেন, এ বছর খরার কারণে অনেক লিচু নষ্ট হয়ে গেছে বা ফেটে গেছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকে আমরা কম লিচু পাচ্ছি। যেখানে আগে আমি দিনে প্রায় ৫ হাজার লিচু বিক্রি করতাম, এখন ২ হাজার বিক্রি করতেও হিমশিম খাচ্ছি। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা শুধু দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফল উৎপাদনে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। রাজশাহীর মতো লিচু উৎপাদনকারী এলাকায় খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরো কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, লিচু এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাজারজাত শুরু হতে আরো ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।
তিনি আরো বলেন, মৌসুমের প্রথম লিচু হওয়ায় বিক্রেতারা কিছুটা বেশি দাম নিচ্ছেন। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।