দক্ষিণ লেবাননের আনসারিয়াহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন, লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি) বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননে ২ মার্চ থেকে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। রবিবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণায় জানায়, দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,০৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৬,৫৮৮ জন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক আলোচনা চলার মধ্যেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের একাধিক নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুনঃ ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন পরবর্তী দফা আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে ও স্থানে পরবর্তী দফার বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার প্রথম এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আশা প্রকাশ করেছে যে, এই সংলাপ ২০২৪ সালের চুক্তির পরিধি ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে রূপ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে, শত্রুতা অবসানের যেকোনো চুক্তি অবশ্যই দুই দেশের সরকারের মধ্যে হতে হবে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকতে হবে; অন্য কোনো পথে পৃথকভাবে আলোচনা করা যাবে না।
আরো পড়ুনঃ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ১০ দিনে নিহত ২,০৫৫
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমে লেবাননের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন সহায়তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ খুলে যেতে পারে এবং উভয় দেশের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।
ইসরায়েল পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সব অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান করতে এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে টেকসই শান্তি অর্জনে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে লেবানন ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঘোষিত শত্রুতা অবসানের চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতিগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট চরম মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।