৪ ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাচ্ছে এস আলম গ্রুপ?

শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টিই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত

by নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখা যায়, এই তালিকার ১১টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরে পুরানো পরিচালকদের ব্যাংকখাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ও ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে ছুটিতে পাঠানো নতুন সমীকরণ দিচ্ছে ব্যাংকখাতে।

ব্যাংকটি আবারও এস আলমের হাতে ফিরে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা নিয়ে রোববার মানববন্ধন করে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। সেখানে ব্যাংকটি এস আলমের হাতে গেলে আমানতের সব টাকা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন তারা। এছাড়া আবারও দুর্বৃত্তায়ন ফিরবে ব্যাংক খাতে এমন আশংকা তাদের।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ কোথা থেকে এলো সে সম্পর্কে কিছু জানে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরো পড়ুনঃ গণভোটসহ ১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি

তবে ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে এটি তার অংশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী। তবে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

এদিকে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও মালিকানায় ফেরার বিধান যুক্ত করার উদ্যোগকে আত্মঘাতীমূলক বলে মন্তব্য করেছে দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি।

সংস্থাটি বলছে, এ বিধানের মাধ্যমে সরকার জবাবদিহি ব্যতিরেকে চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে ব্যাংকিং খাত পুনরায় দুর্নীতি ও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে টিআইবি।

আরো পড়ুনঃ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ, জানালেন অর্থমন্ত্রী

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সুশাসনের ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে দায়মুক্তি ও বিচারহীনতার চর্চা আগের কর্তৃত্ববাদী সরকারের মতো অব্যাহত রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা “ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫” এ ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সব অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না বিধান ছিল। সেটি সংশোধন করে “ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬”–এ ১৮(ক) ধারা সংযোজনের মাধ্যমে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের পরিবর্তে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবে ব‍্যাংক খাতের লুটেরাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা দূরে থাক, বিশালভাবে পুরস্কৃত করা হলো, যা আত্মঘাতীমূলক। সরকারের এ সিদ্ধান্ত হতাশাজনক হলেও অবাক করার মতো তেমন কিছু নেই। কর্তৃত্ববাদের পতনের অর্থ ব‍্যাংক খাতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবরদখলের অবসান নয়। বরং “উইনার টেইকস অল”  অনুযায়ী নীতিদখলের পালাবদলের মাধ্যমে চোরতন্ত্রের সাময়িক বিরতির পর পুনর্বাসনের পথ সুগম করেছে সরকার। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা।

You may also like