আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংসদে যে ১৬টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর বৈধতা রয়েছে। তিনি বলেন, “এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ।”
আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং সবকিছু সংবিধানের আওতায় হবে।
গণভোট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ—বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, নির্বাহী ক্ষমতা ও সংশোধন-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে গণভোট আয়োজন করতে হলে তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই করতে হবে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে। গণভোট হয় সংবিধানসম্মতভাবে, নয়তো আলাদা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করতে হবে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সব আন্দোলনের সুবিধাভোগী। তারা সব আন্দোলনের সুবিধা নিয়েছে কিন্তু কোনো গণ-আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি কখনোই রক্ষা করেনি।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলনের পর বিএনপি সরকার তিন দলের জোটের রূপরেখা অস্বীকার করেছিল। এখন তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালনের কথা বলছে, অথচ তারাই জুলাই সনদকে কলুষিত করেছে।
তিনি বিএনপিকে সংস্কারের পথে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার গঠনের পর দেশ পুরোনো পথে পিছিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও বিচার বিভাগের দলীয়করণের মাধ্যমে বিএনপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
মামুনুল হকের বক্তব্য
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “গণভোট বাস্তবায়ন বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের দাবি। আমরা জানতাম, বিএনপি এমন করবে। নির্বাচন হয়েছে, বিএনপির এখন আর গণভোটে সমর্থন নেই। এক মাঘে শীত যায় না। বিএনপিকে আবারও জনতার কাছে আসতে হবে।”
আজ রোববার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শহরে দলের দায়িত্বশীল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, খেলাফত মজলিস গণভোটের দাবিতে প্রথম বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির বর্তমান রাজনীতি নৌকার ভোটারদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা, যা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে।
১১-দলীয় জোটের বিক্ষোভ
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। আজ রোববার বিকেলে বিভিন্ন জেলা শহরে পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়।
নওগাঁ: মুক্তির মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ।
পঞ্চগড়: জেলা জজ আদালতের সামনে থেকে মিছিল ও সমাবেশ।
রাজবাড়ী: আজাদি ময়দানে সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল।
মানিকগঞ্জ: বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ ও মিছিল।
ফরিদপুর: প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল ও সমাবেশ।
নোয়াখালী: মাইজদীতে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ।
ভোলা: প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ, মিছিল ও লিফলেট বিতরণ।
সাতক্ষীরা: সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে মিছিল ও সমাবেশ।
কক্সবাজার ও চাঁদপুর: বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।