জাতিসংঘঃ অভিবাসন পথে ২০২৫ সালে প্রায় ৭,৯০০ মৃত্যু

২০২৫ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশীরা অন্যতম ছিল

by নিজস্ব প্রতিবেদক

অভিবাসন পথে ২০২৫ সালে প্রায় ৭,৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। তারা মারা গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বরাতে জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার “মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট” ২০১৪ সাল থেকে অভিবাসনের সময় ৮০,০০০-এর বেশি মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে বলে জানায় আইওএম।

আইওএম আরো জানিয়েছে, এই সংখ্যা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার সর্বনিম্ন সীমা নির্দেশ করে। তবুও, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, অভিবাসীদের মৃত্যু বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

২০২৫ সালের সবচেয়ে বেশি ১,৮৭৮ জন মারা যায় ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া আফ্রিকান অভিবাসীদের জন্য লিবিয়াই প্রধান রুট হিসেবে রয়ে গেছে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশী জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে ইরানকে অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

এছাড়া লোহিত সাগর পথে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৯২২-এ দাঁড়িয়েছে।

 

বাংলাদেশীদের সংখ্যা প্রচুর

একই বছর বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে যাত্রা শুরু করা প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই রুটের জন্য এটি ছিল রেকর্ডকৃত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর, যেখানে প্রায় ৬,৫০০ জন এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

২০২৫ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী শীর্ষস্থানীয় মানুষদের মধ্যে বাংলাদেশীরা অন্যতম ছিল। যদিও বাংলাদেশীদের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না, তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে একটা বড় অংশ বাংলাদেশী।

২০২৫ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে একটি জাহাজডুবিতে বাংলাদেশীসহ অন্তত ২১ জন নিহত হন।

এ বছর মার্চের শেষে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টাকালে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশী অভিবাসী মারা গেছেন। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, খাবার ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ছয় দিন থাকার পর অনাহার ও ক্লান্তিতে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকেই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

You may also like