শাহবাগে লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা, কুষ্টিয়ায় ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে সাধক শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা এবং এসব ঘটনায় সরকার ও পুলিশের নীরব সমর্থনের অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নারীবাদী, অধ্যাপক, গবেষক ও অধিকারকর্মীরা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবাদলিপিতে তারা বলেন, গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় শাহবাগে “আজাদী আন্দোলন”-এর আড়ালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জুলাই মঞ্চের উগ্রবাদী গোষ্ঠী শিল্পী, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, ট্রান্স অধিকারকর্মী ও হিজড়া ব্যক্তিদের আড্ডায় পরিকল্পিত হামলা চালায়।
এর আগে ৩ এপ্রিল মোবাইল সাংবাদিকদের উসকানিতে শুরু হওয়া সহিংসতা ১০ এপ্রিল “এলজিবিটিকিউআই নিধন”-এর মতো ভয়াবহ রূপ নেয়।
একইভাবে ১১ এপ্রিল (শনিবার) কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ধর্মীয় লেবাসধারী দুষ্কৃতকারীরা পীরের মাজার ভাঙচুর করে এবং সাধক শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করে। অভিযোগ করা হয়, এই হামলা পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটেছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, “আজাদী আন্দোলন”-এর নামে খেলাফত মজলিস ও জুলাই মঞ্চের উগ্রবাদীরা এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। শাহবাগ থানার সামনে এবং কুষ্টিয়ায় পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এতে সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সরাসরি সম্পৃক্ততা দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পৃষ্ঠপোষকতার ইঙ্গিত দেয়।
আরো পড়ুনঃ দিপু দাসের আত্মস্বীকৃত খুনি জামিন পেল
নারীবাদীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি দাবি করে বলেন, এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে অপসারণ করতে হবে। তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলোঃ
– কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি প্রদান।
– আজাদী আন্দোলন, জুলাই মঞ্চ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা।
– হামলায় জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত ও শাস্তি প্রদান।
– পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিচারিক তদন্ত এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
– লৈঙ্গিক বৈচিত্র্য ও ভিন্নমতের কারণে কোনো নাগরিকের ওপর হামলা বা বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে “তৌহিদী জনতা”র ব্যানারে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অপতৎপরতা চলছে। “ট্রান্সজেন্ডার বলে সন্দেহ”, “সমকামী নিধন” ইত্যাদি বিদ্বেষমূলক বয়ান দিয়ে সন্ত্রাসকে জায়েজ করা হচ্ছে। সরকার যদি এর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান না নেয়, তাহলে জনগণ জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ৫৫ জন বিশিষ্ট নারীবাদী, অধ্যাপক ও অধিকারকর্মী। উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষরকারীরা হলেন- আইনুন নাহার (অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), ফিরদৌস আজিম (অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়), খুশী কবির (সমন্বয়কারী, নিজেরা করি), সায়েমা খাতুন, হানা শামস আহমেদ, তাসনীম সিরাজ মাহবুব (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), নূজিয়া হাসিন রাশা, স্কাইয়া ইসলামসহ আরও অনেকে।