যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের সব বন্দরে অবরোধ শুরু

ট্রাম্প বলেছেন, অবরোধ ভাঙতে এলে ইরানের অ্যাটাক শিপ ধ্বংস করে দেওয়া হবে

by নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধের আওতাভুক্ত জলসীমায় কোনো জাহাজ গেলে তা আটক, দিক পরিবর্তন বা জব্দ করা হতে পারে।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০ টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) মার্কিন বাহিনীর অবরোধ শুরু হয়।

কিছুক্ষণ পরে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল নতুন পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ ভাঙতে এলে ইরানের অ্যাটাক শিপ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যে গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসে। প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে রোববার সকালে এই বৈঠক শেষ হয় কোনো সমঝোতা ছাড়াই। এরপর আজ ইরানের সব বন্দর অবরোধ করল যুক্তরাষ্ট্র।

আরো পড়ুনঃ চুক্তি করার জন্য ইরান আবার যোগাযোগ করেছে, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের বিচার বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা “লিগ্যাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন”-এর প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় লিগ্যাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন বৈজ্ঞানিক ও বিশেষায়িত পদ্ধতি ব্যবহার করে শহীদদের লাশ শনাক্ত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে, তাদের ১৫৮টি জাহাজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্বল্পসংখ্যক তথাকথিত ফাস্ট অ্যাটাক শিপে (দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজগুলো) আমরা এতদিন আঘাত করিনি, কারণ সেগুলোকে আমরা খুব একটা বড় হুমকি মনে করিনি।

ট্রাম্প লিখেছেন, “সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের আওতায় থাকা এলাকার ধারেকাছেও আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রপথে মাদক ব্যবসায়ীদের নৌকা ধ্বংস করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, এদের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।”

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, তেহরান “খুব মরিয়া হয়ে” ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়, খবর আল–জাজিরা’র।

আরো পড়ুনঃ ইরান যুদ্ধের কারণে দরিদ্র মানুষ বাড়বে ৩ কোটির বেশি

চলমান অচলাবস্থা কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, মূল বিষয়টি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি।” তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বকে ব্লাকমেইল এবং চাঁদাবাজি করা থেকে ইরানকে বিরত রাখা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা ওই প্রণালি ব্যবহার করি না।” তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সৌদি আরব এবং রাশিয়ার চেয়েও বেশি তেল ও গ্যাস রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, অনেক দেশ এখন “সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও উন্নত” তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “সবকিছু এর আগেই মিটে যেতে পারে।”

অন্যান্য দেশ এই অবরোধে সমর্থন দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের অন্য কোনো দেশের প্রয়োজন নেই।” তবে কিছু দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে দাবি করে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি আগামীকাল প্রকাশ করবেন।

You may also like