কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ৪ জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

এছাড়া সোমবার সকাল থেকে বিকালের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে

by নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার দেশের কয়েকটি জেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখী। ঝড়ে গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে জামালপুরে ঘুমন্ত মা ও দুই মেয়ে, হবিগঞ্জে তিন জন, বগুড়ায় দুজন ও নওগাঁয় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া সোমবার সকাল থেকে বিকালের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন।

এর আগে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন এবং ১৭ এপ্রিল ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

 

জামালপুরে মা-মেয়ে নিহত

সোমবার জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখীতে গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ভোরে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুনঃ বজ্রপাত নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা ও স্পিকারের হাস্যরস

নিহত তিন জন হলেন উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী গ্রামের মৃত গণি মন্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম, ৯০, তার দুই মেয়ে ফাতে বেগম, ৫০, ও ফরিদা বেগম, ৪৫। মেলান্দহ থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবীর বিষয়টি জানান।

 

হবিগঞ্জে তিন জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন ৪-৫ বার করে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া, প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতসহ শিলাবৃষ্টি আঘাত হানছে বিভিন্ন এলাকায়। সোমবার কালবৈশাখীর তাণ্ডবে জেলায় অন্তত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

বগুড়ায় ঝড়ে গাছ পড়ে দুজনের মৃত্যু

কালবৈশাখী ঝড়ে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাবতলীতে গাছ দোকানে ভেঙে পড়ে উমা চন্দ্র রায়, ৫২, নামে এক পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের লাঠিগঞ্জ বাজারে দোকানের ওপর পুরাতন বটগাছ উপড়ে পড়ে। গাবতলী থানার ওসি রাকিব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ বজ্রপাতে ৯ কৃষকসহ ১২ জনের মৃত্যু

নিহত উমা চন্দ্র রায় গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের চকরাধিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কালিদাস রায়ের ছেলে। তিনি লাঠিগঞ্জ বাজারে একটি দোকানে পানের ব্যবসা করতেন।

রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ প্রবল বাতাসের সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি বিশাল বটগাছ উপড়ে দোকানের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে দোকানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা ব্যবসায়ী উমা চন্দ্র রায় গাছের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে গাবতলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে গাছ কেটে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

এদিকে সারিয়াকান্দিতে কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে গিয়ে দিলবর সরদার, ৫৫, নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার নিজ বাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা প্রশাসন মৃতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

দিলবর সরদার সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজ বাটিয়া গ্রামের মৃত জালাল সরদারের ছেলে। রবিবার রাতে সারিয়াকান্দির নিজ বাটিয়া গ্রামে ঝড় ও বৃষ্টি হয়। এ সময় দিলবরের একটি ইউক্যালিপটাস গাছ প্রতিবেশীর ঘরের ওপড়ে উপড়ে পড়ে। তিনি সোমবার সকাল ৮টার দিকে ওই গাছটি সরানোর চেষ্টা করেন। সম্ভব না হলে গাছ কাটার একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান। এ সময় একটি বড় ডাল তার গায়ের ওপরে পড়ে। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

নওগাঁয় গাছ ভেঙে পড়ে নারীর মৃত্যু

নওগাঁর আত্রাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে বেদে সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা আরাফাতুন, ২০, নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ভোরে সরকারি কলেজ মাঠ সংলগ্ন আত্রাই নদীর তীরে বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে বেদে সম্প্রদায়ের ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। হঠাৎ করে ভোরের দিকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়লে তার নিচে চাপা পড়েন ওই নারী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

You may also like