এক মাস যেতে না যেতেই অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিতর্কিত করেছে নেপালের জেন জি নেতৃত্বের সরকারকে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রীকে চাকরি দেয়ায় গত ৯ এপ্রিল বরখাস্ত হন শ্রমমন্ত্রী দীপক কুমার শাহ। অবশ্য তাকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেননি প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামে অধিক পরিচিত।
একই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং-এর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকা এবং শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের অভিযোগ ওঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে সরকারি দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে (আরএসপি) চাপা ক্ষোভ বাড়তে থাকলেও মন্ত্রীসভা বা দলের কোন সভায় সুদান গুরুং-কে নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।
অবশেষে, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রীসভার সদস্যরা তাদের সম্পদের হিসাব দিলে আয়ের উৎস নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, যার হামি নেপাল সংগঠনটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
অনেকেই প্রশ্ন করেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান হয়েও কিভাবে তিনি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। এমনকি জেন জি আন্দোলনের পর একটি বিতর্কিত কোম্পানির শেয়ার কেনা, নতুন গাড়ি কেনা এবং পোখারার ফেওয়া লেন এলাকায় অবৈধ জমি লীজ নেয়া নিয়েও তার সমালোচনা করেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা।
অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে তাঁর ‘ব্যবসায়িক সম্পর্কের’ অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক শুরু হয়।
এছাড়া শপথের পর পর মন্ত্রীসভার বৈঠক থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রধানকে চাপ দেয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।
নানাভাবে নেপাল পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ করায় ক্ষোভের সঞ্চার হয় অনেক কর্মকর্তার মাঝে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার নিজের পদে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন সুদান গুরুং, যিনি ২০১৫ সালে ডিজে’র চাকরি ছেড়ে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে হামি নেপাল প্রতিষ্ঠা করেন।
গত বছর সেপ্টেম্বরে অলি সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠিন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয় হামি নেপাল। ডিসকর্ড, টিকটক ও অন্যান্য মাধ্যমে জেন-জিদের সম্পৃক্ত করে ৮ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। সেদিন পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হলে পরেরদিন বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ভবনসহ প্রায় ৩,০০০ অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে ফেলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১২,০০০-এর বেশি গাড়ি। বিক্ষোভকারীদের হামলার সুযোগে কারাগার থেকে পালিয়ে যায় কয়েক হাজার কয়েদি। দুইদিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৬ জনে। এদের মধ্যে ৪৫ জনকে শহিদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া দেয়।