লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছিল, জানালেন মির্জা ফখরুল

তিনি বলেন, ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন

Published: Updated:

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৫ সালের জুনে লন্ডনে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষদিনে তিনি বলেন, “সেই বৈঠক সম্পর্কে তারা (বিরোধীদল) বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করে বলেছেন, সেখানে নাকি একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে আজ বিএনপি এই পার্লামেন্টে মেজরিটি নিয়ে বসে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। লন্ডনে বৈঠক হয়েছিল বলেই আজ আমরা এখানে সবাই। কারণ লন্ডন বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ হয়েছিল। ওই বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা রাজি হয়েছিলেন যে দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি নির্বাচন দেবেন। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাও আমাদের সবাইকে স্বীকার করে নিতে হবে।”

অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

আরো পড়ুনঃ জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তাল সংসদ

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে ৫ আগস্টের পর তারা (জামায়াত) বলছেন যে আমাদের চেহারা বদলে গেছে। আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা (জামায়াত) হঠাৎ করেই বদলে গেলো। হঠাৎ করে মনে হলো যে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সব কিছু তৈরি হয়ে গেছে। তখন তারা যেসব উক্তি এবং যেসব কথা বলেছেন বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, এই বক্তব্যগুলো গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি। আজ যে দূরত্ব, এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার একটা কারণ ছিল। আপনারা নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন, নির্বাচনকে বলছেন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। এটা কেউই মেনে নেবে না, মেনে নেয়নি। এই দেশের মানুষ সেটি মেনে নেবে না।”

মন্ত্রী বলেন, “গণহত্যা চালাচ্ছিল—সেই সময়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনে (স্পিকার) যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই সময়ে সেই বাংলাদেশি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে সব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি (স্পিকার) যুদ্ধে নেমে গিয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ উঠেছে আমাদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে আমাদের সম্মানিত এক সদস্য বলেছেন যে আমি সংবিধানকে ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করেছি এবং সংবিধান যেন ঠিক থাকে সেই ব্যাপারে আমি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে আপনারা, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি— হ্যাঁ, করেছি। কারণ এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত, এই সংবিধান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। এই সংবিধান ১৯৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত।”

আরো পড়ুনঃ সরকার ২৩,৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করেছে

মন্ত্রী বলেন, “এই সংবিধানের অনেকগুলো আর্টিকেল আছে, অনেকগুলো অধ্যায় আছে, যেগুলো বারবার পরিবর্তন হয়েছে এবং এই সংবিধানকে কেটেছেঁটে একটা কাটাছেঁড়া পাতায় পরিণত করা হয়েছে। এই সংবিধানের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি—এটা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান।”

রাষ্ট্রপতির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন সালাহ উদ্দিন সাহেব, আজকে যে রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমরা কথা বলছি, রাষ্ট্রপতি যে-ই হোন না কেন, তিনি একটি ইনস্টিটিউশন, কোনও ব্যক্তি নন। একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানকেই আমরা রক্ষা করেছি আমাদের প্রয়োজনে। কারণ ৫ আগস্টের পরে যদি এই রাষ্ট্রপতি না থাকতেন তাহলে এই রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা, একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো।”

জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি, এই দেশের সব মানুষই ধারণ করে। যখন এই কথাগুলো এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনও কটাক্ষ করা হয়, তখন তো অবশ্যই আমরাও কষ্ট পাই। এই লাখো মানুষ যারা সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে—তারাও কিন্তু একইভাবে কষ্ট পায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কারবিরোধী বলে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করেন, পোস্টার নিয়ে এসেছেন, পার্লামেন্টে বলেছেন আমরা সংস্কার চাই না। সংস্কারের জনক তো আমরাই।”

You may also like