অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ ফেরত আনতে সরকার বিভিন্ন দেশে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, “বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো—২০১২ সালের ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশে অনুরোধ বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো।”
অর্থমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত যৌথ তদন্ত দল ইতোমধ্যে দেশের আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
আরো পড়ুনঃ ৫২ দিনে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা পার হওয়ায় রুমিন ফারহানার উদ্বেগ
সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রশ্নে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া জনতা ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, এস আলম গ্রুপের বিষয়ে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুর—এই চার দেশে এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ‘বিদেশে সম্পদের সন্ধান ও শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চারটি বিদেশি আইন সংস্থা নিয়োগ করা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার’
প্রক্রিয়াটির জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া। এমএলএআর-এর জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সম্পদ শনাক্তকরণ ও আদালতে অর্থপাচার প্রমাণের ওপরই পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে।”
খসরু বলেন, অন্যান্য দেশেও এ ধরনের উদ্যোগে দীর্ঘ সময় লেগেছে। “চলতি বা আগামী অর্থবছরে কত টাকা বা সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা এই মুহূর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “সব ধরনের আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে।”