সরকারি দলঃ সংবিধান প্রত্যাখ্যান মানেই স্বাধীনতার প্রতি অসম্মান

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব

by নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সোমবার সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, যারা সংবিধান বাতিল করতে চায়, তারা মূলত দেশের স্বাধীনতার প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করে না।

তারা বলেন, সংবিধান পরিত্যাগের চিন্তাই স্বাধীনতার প্রতি অবমাননার শামিল।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

নোয়াখালী-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, “সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা যেতে পারে, কিন্তু একে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা যায় না। এটি আমাদের স্বাধীনতার অর্জন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের এই অর্জন রক্ষা করতে চাই। স্বাধীনতার পর একদলীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করে আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পরবর্তীতে কার্য-উপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।

আরো পড়ুনঃ গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার আলোচনায় অংশ নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, “দেশ সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং আমরা সবাই সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছি। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।”

পঞ্চগড়-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জামির সংবিধানকে “জীবন্ত দলিল” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটি জাতির পরিচয় এবং এই সংবিধান নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব।”

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশে একটি নির্ভরশীল অর্থনীতি তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করে জ্বালানি সংকটকে সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

রাজনীতিতে বিরোধী দলের প্রতি “অসৎ উদ্দেশ্য” পরিহারের আহ্বান জানিয়ে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য,ও হুইপ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্রের যাত্রায় সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতি চালু করেছেন। তাই বিরোধী দলেরও উচিত রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

গাইবান্ধা-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য এম মাজেদুর রহমান গাইবান্ধা ও জামালপুরের মধ্যে যমুনা সেতু-২ নির্মাণের আহ্বান জানান।

এছাড়া বরিশাল-২ এর সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ এর লুৎফর রহমান আজাদ, গাজীপুর-২ এর মনজুরুল করিম রনি, ময়মনসিংহ-৩ এর এম ইকবাল হোসেন, নওগাঁ-২ এর এনামুল হক, ঢাকা-৪ এর সৈয়দ জয়নাল আবেদীন, পাবনা-৩ এর আলী আসগর, নড়াইল-২ এর আতাউর রহমান, কুষ্টিয়া-৪ এর আফজাল হোসেন, রংপুর-৪ এর আখতার হোসেন, নেত্রকোণা-৫ এর মাসুম রেজা, বাগেরহাট-১ এর মশিউর রহমান খান এবং ময়মনসিংহ-৬ এর কামরুল হাসানও আলোচনায় অংশ নেন।

You may also like