সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ।
বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাস হওয়া বিলে অধ্যাদেশের মূল বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
এ উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ১১ মে অধ্যাদেশটি জারি করা হয় এবং পরেরদিন নির্বাহী আদেশে নিষেধাজ্ঞা ইস্যু করা হয়। ১২ মে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি।
এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার সার্বিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল না। নতুন সংশোধনীর ফলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে যেকোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে এবং তার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারবে।
আরো পড়ুনঃ সংসদে পাস হলো ইউনূস আমলের ১৪টি অধ্যাদেশ
বিল অনুসারে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে:
– সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলভুক্ত করতে পারবে
– সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে
এছাড়া নিষিদ্ধ সত্তার পক্ষে বা সমর্থনে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ, গণমাধ্যম, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেন, তুলনামূলক শিট তাঁরা মাত্র তিন-চার মিনিট আগে পেয়েছেন। এত স্পর্শকাতর আইন পাসের আগে আরও সময় দেওয়া উচিত।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, আপত্তি জানানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে আপত্তি না জানালে এখন আর সুযোগ নেই। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত সংশোধনী। জনমতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনেও তাদের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
তিনি বলেন, এই বিলটা হলো, একটি গণহত্যাকারি সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত একটি এমেনমেন্ট (সংশোধনী)। আগের যে আইন ছিল, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সেটার সংশোধনের জন্য। বিরোধী দলীয় নেতার স্মরণে থাকার কথা যে তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জনমত তৈরি করেছিলেন। সেই জনমতের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের বলেই একটি রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত আছে। এমনকি আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে সংগঠনের বিচারের জন্য।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। আজ পাস হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিলটি সেই ১৫টির মধ্যে একটি, যেখানে কোনো অতিরিক্ত সংশোধনী আনা হয়নি।