বুধবার, মে ৬, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলে গ্রহণ করবে ইরান

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুধু একটি “ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গ” চুক্তিই গ্রহণ করবে।

বুধবার বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি আরাগচির প্রথম চীন সফর।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে আরাগচি ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে এমন কোনো স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া তেহরান অন্য কিছু মেনে নেবে না।

চীনকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে আরাগচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের অবস্থান ও সহযোগিতার জন্য তেহরান কৃতজ্ঞ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এ সময়ও ইরানের ওপর আরোপিত নৌ–অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।

ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা পরস্পর একমত হয়েছি যে অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকলেও প্রজেক্ট ফ্রিডম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে। মূলত (শান্তি) চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।“

তবে ট্রাম্পের এ বার্তার বিষয়ে বুধবার সকালে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, হরমুজে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে প্রণালিটি ছাড়তে সহায়তা করতে গত সোমবার সকাল থেকে প্রজেক্ট ফ্রিডম নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের চেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান।

You may also like