দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পৃথিবীর সব দেশেই কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থাকে, আর থাকে কিছু রেডিকেল ফোর্স ও ফান্ডামেন্টাল পলিটিক্যাল পার্টি

by নিজস্ব প্রতিবেদক
Published: Updated:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গি বা উগ্র তৎপরতার কোনও অস্তিত্ব নেই।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীর সব দেশেই কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থাকে, আর থাকে কিছু রেডিকেল ফোর্স ও ফান্ডামেন্টাল পলিটিক্যাল পার্টি। তবে বর্তমান বাংলাদেশে এমন তৎপরতা বা শব্দের প্রয়োগ করার মতো পরিস্থিতি নেই।”

তিনি বলেন, আগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এসব বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার”-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা গ্র্যাজুয়াল উইথড্রয়ালের (ধাপে ধাপে প্রত্যাহার) মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্স প্রত্যাহার করা যায় না। খুব শিগগিরই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।”

আরো পড়ুনঃ জ‌ঙ্গি হামলা মোকাবেলায় কাজ কর‌ছে সি‌টি‌টি‌সি

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সবসময় বহাল থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই বাহিনীকে অত্যাধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরো সমৃদ্ধ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান যুগে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকা- পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবিলায় কোস্টগার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

You may also like