দুই মাস পর ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ আসলো বাংলাদেশে

ক্রুড অয়েলের অভাবে গত ১৪ এপ্রিল থেকে ইর্স্টান রিফাইনারি লিমিটেডের উৎপাদন র্কাযক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়

সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা জাহাজ “এমটি নিনেমিয়া” কুতুবদিয়ায় এসে পৌঁছেছে।

বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন।

এর ফলে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ “এমটি নিনেমিয়া”।

জাহাজটি সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রামে আসার তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান বিএসসির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এদিনই ট্যাংকারটি থেকে ক্রুড অয়েল লাইটারিং কাজ শুরু করা হবে। এ কাজের এজন্য ছয়টি লাইটারেজ জাহাজ সেখানে রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে।

আরো পড়ুনঃ জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়লো আরো কয়েকটি জাহাজ

ইরান যুদ্ধের জেরে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের চালান দেশে এসেছিল। ক্রুড অয়েলের অভাবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ইর্স্টান রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এ গত ১৪ এপ্রিল থেকে উৎপাদন র্কাযক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

ক্রুড অয়েলের চালান আসায় ইআরএল বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনে যাবে বলে আশা করছে সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

ইআরএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শরীফ হাসনাত বলেন, “সবধরণের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আবহাওয়াসহ অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ হলে বৃহস্পতিবার বিকাল বা সন্ধ্যা থেকে পাঁচটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া যাবে।”

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের কোনো চালান বাংলাদেশে আসেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর ১০ দিন আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ দেশে আসে। সেই তেল দিয়ে ইআরএলে এতদিন শোধন প্রক্রিয়া চলেছে।

আরো পড়ুনঃ জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মেয়াদ ৩০ দিন

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সাগরপথে জাহাজে করে এনে পরিশোধন করা হয় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে। এ রিফাইনারির বার্ষিক শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন।

ক্রুড অয়েল শোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ন্যাপথা, বিটুমিন, এলপিজিসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। তবে ডিজেলই উৎপাদন করে সবচেয়ে বেশি।

ইআরএলের এমডি বলেন, “আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েলের আরও একটি চালান লোড হবে। ১০-১১ মে এটি সেখান থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।”

You may also like