দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মাজদা অয়েল কোং লিমিটেডের মাধ্যমে ১ লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।
এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরিস্থিতির জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কমিটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এই ডিজেল কেনার সুপারিশ করেছে।
ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
আরো পড়ুনঃ ভারত থেকে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৯তম সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক আমদানির এই প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।
একই দিন মালয়েশিয়া থেকে ২৬,৫০০ টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়েছে হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ “কুইচি”। এর আগে ৮ এপ্রিল ২৬,০০০ টন এবং ১৭ এপ্রিল ২৭,০০০ টন অকটেন নিয়ে আরও দুটি জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছেছিল।
দৈনিক গড়ে ১,২০০ টন চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ অকটেন দিয়ে দুই মাসেরও বেশি সময় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে ২৮ এপ্রিল ভারত থেকে ৩৪,০০০ টন এবং চীন থেকে ১০,০০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
আরো পড়ুনঃ মালয়েশিয়া থেকে আসলো ২৬,৫০০ টন অকটেনবাহী জাহাজ
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে সংকট দেখা যায় এবং চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাস-ট্রাকের লম্বা সারির ছবি ও ভিডিওতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাস ও ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ার পাশপাশি বিভিন্ন পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়।
এমন অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের মধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধীদলের ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০,০০০ টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। আর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২,০০০ টন ডিজেল আনা হয়।
আরো পড়ুনঃ জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মেয়াদ ৩০ দিন
ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল তেল পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এসব তেল সরবরাহ করা হয়।
এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব। চুক্তি অনুযায়ী ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে দুই থেকে তিন লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে।