ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীঃ আগামী বছর থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে

তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে

আগামী ২০২৭ সাল থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

বুধবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা অনেক কিছু বাধ্যতামূলক করছি। খেলাধুলাকেও বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এটি কার্যকর করব।“

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, যুবসমাজ ও খেলাধুলার মধ্যে একটি গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এটি সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং, মোবাইল সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোর পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তৃণমূল পর্যায়ে যুবকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও এসব সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসতে পারবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সমন্বয় জোরদার হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

ক্রীড়া খাতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা স্টেডিয়ামে নতুন করে ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আটটি ভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা চলছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এ উদ্যোগকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরে দেশজুড়ে খেলোয়াড়দের শক্তভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামগুলো মেলার জন্য ব্যবহার হওয়ায় খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে স্টেডিয়াম মেলার জন্য ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় অকার্যকর হয়ে পড়া স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স সংস্কারের জন্য সমন্বিত প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সুইমিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন বিভিন্ন খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে যৌথভাবে পরিদর্শন করেছেন। যেসব মাঠ খেলার উপযোগী, সেগুলো অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

You may also like