সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেনের ‘সন্দেহজনক ফেইসবুক যোগাযোগের’ তথ্য চেয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ।
মেটার কাছে বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার করা কয়েকটি ফেইসবুক আইডির সঙ্গে মুজাফফরের কথোপকথনের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা বলেন, গত সপ্তাহে মুজাফফরের যোগাযোগের তথ্য পেতে ফেইসবুকের নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে মেটার কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
ই-মেইলে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টের সাবস্ক্রাইবার তথ্য, ই-মেইল, ফোন নম্বর, লগইন ইতিহাস, আইপি ঠিকানা, লোকেশন ডেটা এবং মুছে ফেলা বার্তাসহ ১২ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত বিভাগ মুজাফফরের একটি ফেইসবুক আইডি খুঁজে পেয়েছে। এ আইডির মাধ্যমে ‘সন্দেহজনক’ যোগাযোগ যাচাইয়ের এজন্য এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত বিভাগের কাজের সঙ্গেও যুক্ত ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জোহা।
এদিকে মুজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে চলমান অন্যান্য তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আপাতত জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি হাতে রাখা হয়েছে। অন্যান্য তদন্তের সঙ্গে মিলিয়ে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে, তবেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সাবেক মেজর মুজাফফরকে গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।
মুজাফফর যেসব ফেইসবুক আইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সেগুলোর বিষয়ে কৌঁসুলি জোহা বলেন, “শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি সংবলিত ও বাংলা টাইপ কোডেড আইডিতে মুজাফফরের কথোপকথনের ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এই আইডিগুলো ভুয়া নাকি সঠিক, সেটা জানার জন্যই মেটাকে আমরা প্রশ্ন করেছি।
“মুজাফফরের মত একজন ব্যক্তি কেন এসব আইডির সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, আইডিগুলোর পেছনে কারা আছেন এবং তাদের ভৌগোলিক অবস্থান কী, তা অধিকতর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে মুজাফফরের আদৌ কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না, মেটার তথ্য পেলে সেটিও পরিষ্কার হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
গত সপ্তাহ থেকে মেটার সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার কথা তুলে ধরে জোহা বলেন, তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। ২০২৪ সালের পুরনো তথ্য চাওয়ার কারণে মেটা থেকে এগুলো পেতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, মুজাফফর যোগাযোগ করেছেন এমন কিছু ফেইসবুক আইডির মধ্যে সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করা আইডির খোঁজ পাওয়া গেছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এসব আইডির পেছনে থাকা ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগের মূল পেইজের এডিটর বা অ্যাডমিন হিসেবে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মেটার কাছ থেকে এসব আইডির ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেলে তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে মুজাফফরের যোগাযোগের পুরো ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
এছাড়া মুজাফফরের একটি ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে চারটি ডিভাইসের লগইনের ইতিহাস উদ্ধারের তথ্য দেন তানভীর জোহা।
এসব ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে মুজাফফর কবে দেশে এসেছেন এবং তিনি আর কী কী ভুয়া আইডি ব্যবহার করেছেন, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।