ফখরুলঃ জিয়াউর রহমানের কর্ম নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন

Published: Updated:

গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে এক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মরহুমের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আবদুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুনঃ জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তাল সংসদ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একজন আদর্শবান, সৎ ও নিরহংকার মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশের জন্য যেমন কাজ করেছেন, তেমনি একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার জীবন আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

মন্ত্রী আরো বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা তাকে বেশিদিন আমাদের মাঝে ধরে রাখতে পারিনি। তবে তার আদর্শ, নীতি ও কর্ম আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে। নতুন প্রজন্মের উচিত তার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা।”

তিনি জিয়া পরিষদের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে জিয়া পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুনঃ স্ত্রীকে নিয়ে শাহজালালের মাজারে প্রধানমন্ত্রী

সংগঠনটির কার্যপরিধি বাড়িয়ে জনগণের মাঝে ইতিহাসভিত্তিক সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. আবদুল লতিফ বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস শুধু একজন সংগঠকই নন, তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ, যিনি নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। বক্তারা মরহুমের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তার সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেন।

স্মরণসভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতে মরহুম অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও শোকাবহ, যেখানে উপস্থিত সবাই মরহুমের স্মৃতির প্রতি নীরব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

You may also like