জ্বালানি সংকটে দেশের প্রায় সবকটি সার কারখানা বন্ধ থাকায় কৃষিখাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন (প্রডিন্টর্গ) থেকে এই সার সংগ্রহ করবে।
বর্তমান চুক্তির অধীনে এটি দশম লট, যার পরিমাণ ৩৫ হাজার টন (কম-বেশি ১০ শতাংশ পরিবর্তনের সুযোগসহ)।
আরো পড়ুনঃ জ্বালানি মন্ত্রীঃ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ১ মে থেকে
গত ৩০ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) এই অনুমোদন দেয়।
কমিটি প্রতি টন ৩৬৮.১৩ মার্কিন ডলার দরে ১৫৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
সম্প্রতি রাশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল ও ডিজেল আমদানির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ ছাড় বা অনুমতি চেয়েছিল বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার অনুমতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
আরো পড়ুনঃ গ্যাসকূপ খননের বড় প্রকল্প পেলো চীনা কোম্পানি
তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে এপ্রিলের শুরুতে বাংলাদেশে ৬টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে ৫টিই বন্ধ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (CUFL), কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার (KAFCO), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা, ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ও আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এছাড়া যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংকট এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, কৃষিখাতের কথা মাথায় রেখে ১ মে থেকে আশুগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।