জেলায় ইলিশের প্রজনন, জাটকা সংরক্ষণসহ মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বেঁধে দেয়া ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা গতকাল বৃহস্পতিবার দিনগত মধ্যরাতে শেষে হয়েছে। আর তাই বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার পর থেকে ভোলার নদ-নদীতে নামা জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশের ঝাঁক। ফলে উপকূলীয় জেলা ভোলার নদীগুলো ফের সরব হয়ে উঠেছে জেলেদের কর্মচাঞ্চল্যে।
আজ শুক্রবার থেকে পুরোদমেই মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার জেলেরা, খবর বাসস-এর।
সরেজমিনে আজ সকালে শহরতলীর ইলিশার আড়ৎগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, জেলেরা রাতভর প্রচুর পরিমাণে ইলিশ শিকার করে ঘাটে নিয়ে আসছেন। তবে আহরণের প্রথমদিন হওয়ায় ইলিশের দাম বেশ চড়া। তবুও ইলিশের স্বাদ নিতে বহু ক্রেতার কাছে বেশি মূল্য বিবেচ্য নয়। তাই তারা রুপালী ইলিশ কিনতেই আড়ৎগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২শত টাকায়। এছাড়া প্রকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত।
আরো পড়ুনঃ আজ থেকে হালদায় ডিম ছাড়বে মাছেরা
দীর্ঘ ৬০ দিন মাছ শিকার বন্ধ থাকায় ভোলার অধিকাংশ জেলেই সরকারি সাহায্য পেয়েছে।
তারা জানান, এবার দালালচক্রের হস্তক্ষেপ না থাকায় সঠিকভাবে সরকারের সাহায্য পেতে কোনোপ্রকার বেগ পেতে হয়নি। আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা নদীতে নেমে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন বলে খবর মিলেছে। অধিক মাছ পাওয়ায় জেলেরা এখন উচ্ছ্বসিত।
মেঘনার জলে ছড়ানো যে জালগুলো ২ মাস শুকনো ছিলো, জেলেরা সেই জালগুলো এখন উত্তাল নদীর জলরাশিতে ফেলে আহরণ করছেন হরেক রকমের মাছ। জেলে পরিবারের ঘরে ঘরে এখন আনন্দের শেষ নেই।
গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার নদ-নদীতে সবধরনের মাছ ধরায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। এ সময় ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, বেতুয়া, বুড়া গৌরঙ্গা এবং ইলিশা নদীসহ ইলিশের ৬টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিলো।
এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভোলায় জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও লিফলেট বিতরণ করেছে মৎস্য বিভাগ।
ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও তৎসংলগ্ন নদীগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে গত ২ মাসের এ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নদীতে নামতে পারেনি জেলেরা।
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ৯০ হাজার ২শত ১৩ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রথমবারের মতো সরকারের পক্ষ থেকে ৬ রকমের নিত্যপণ্য সামগ্রীও দেয়া হয়েছে জেলেদের। সবমিলিয়ে অন্যবারের চেয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে চালের পাশাপাশি আরো ৬ প্রকারের নিত্যভোগ্যপণ্য পেয়ে খুবই আনন্দিত দ্বীপ উকূলীয় জনপদের জেলে সম্প্রদায়।