এই জামায়াত সেই জামায়াত না, দাবি পরওয়ারের

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলের সেই সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তখনকার যারা রাজনৈতিক দল ছিল, তাদের পলিসি ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে

একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের আগের জামায়াতে ইসলামী আর এখনকার জামায়াত এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন, খবর প্রথম আলো’র।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “পাকিস্তান আমলের সেই সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তখনকার যারা রাজনৈতিক দল ছিল, তাদের রাজনৈতিক পলিসি ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু স্বাধীনতার পর অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সেই সময়কার জামায়াতে ইসলামী আর এখনকার জামায়াত এক নয়। বহুবার জামায়াতের গঠনতন্ত্র, নীতি, পদ্ধতি বদল হয়েছে।”

আরো পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীঃ সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতের গণতন্ত্র পড়ে দেখবেন, ভূমিকাতেই আমরা বলেছি, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই ও সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করি। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ লাভ করতে গেলে এ দেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্বের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি না দিলে কেউ সদস্য হতে পারেন না। এত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পরও একটা মহল যখন এই বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চায়, এটা দেশপ্রেম নয়, স্বাধীনতার প্রেম নয়। এটা হচ্ছে জাতিকে বিভক্ত করার বিদেশি ষড়যন্ত্র।”

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে আনীত বিলের ব্যাপারে খুবই সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, আমরা এই জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি থেকে ফিরে আসতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তখনো বলেছিলাম, এই বিলের মধ্যে রাজনৈতিক খারাপ উদ্দেশ্য আছে, এটা সংশোধন করা উচিত। কিন্তু বারবার এই সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতীতে কোনো সরকারের সময় এটা ছিল না। দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে যে অপশক্তি তৎপর আছে, তাদেরই অপতৎপরতার ফল হিসেবে এটাকে এভাবে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে অত্যন্ত গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য রেখেছেন।”

আরো পড়ুনঃ আইনমন্ত্রীঃ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি কারা, সেটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী মনে করে, বাংলাদেশের কেন, সারা দুনিয়ার ইতিহাসে রাজনীতিতে বহু বিতর্কিত আলোচনা–বক্তব্য থাকতে পারে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ থেকে ৬০ বছর পর পুরোনো কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক করে জাতি কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। আমিরে জামায়াত বলেছেন, “ইতিহাসকে নিয়ে পড়ে থাকলে আমরা কোনো দিন ইতিহাস তৈরি করতে পারব না।” বর্তমান সংসদের অধিকাংশ এমপি তরুণ, যাঁরা স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহণ করেছেন। আপনি তাঁদের স্বাধীনতাবিরোধী বা রাজাকার আখ্যা দিলে জনগণ তা গ্রহণ করে না; বরং উপহাস করে।”

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিউনিজম তত্ত্বে শ্রমিকদের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। একইভাবে একটি রাষ্ট্রে যদি পশ্চিমা গণতন্ত্র, সমাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা প্রাধান্য পায়, তবে সেখানে ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামি শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরো পড়ুনঃ সংবিধান না শরিয়াহ আইন—স্পষ্ট করুন, জামায়াতকে তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা এ টি এম মাসুম, মহানগরের প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মু. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া। মহানগরের সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি মু. মাইন উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিকনেতা আক্তারুজ্জামান, মু. শফিউল্লাহ, নিজাম উদ্দিন, কলিম উল্লাহ, মহিউদ্দিন রিপনসহ আরও অনেকে।

You may also like