জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তাল সংসদ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন বিরোধী দলের সাংসদরা দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি করেন

by নিজস্ব প্রতিবেদক
Published: Updated:

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ বেশ কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন বিরোধী দলের সাংসদরা দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ—ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে দেখা দেয় উত্তেজনা। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জামায়াত-এনসিপির সাতচল্লিশ ও চব্বিশকে বড় করে তুলে ধরা এবং মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার প্রবনতার সমালোচনা করেন কিশোরগঞ্জের সাংসদ ফজলুর রহমান, যিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি দন্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে শোক প্রস্তাবের বিরোধীতা করেন এবং ৫ই আগস্টের পর ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ড ও সন্ত্রাসের বিচার চেয়ে দায়মুক্তির সমালোচনা করেন, খবর প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন-এর।

ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগে ক্ষোভ

বক্তব্যের শুরুতেই ফজলুর রহমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খুব কম আলোচনা থাকায় আপত্তি জানান। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনাআরেল জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্মরণে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই  তার বিএনপিতে আসা। স্বাধীনতার পটভূমি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া এক এক করে সব সেক্টর কমান্ডারদের নাম উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
ফজলুর রহমান তার প্রতি করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, তাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু তার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য! তারা নাকি ইসলাম— এবং উনি যে বলছেন, ওইদিন বললো যে আমার দাড়ি পাকা, আমার চোখের সব পাকা। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ৪৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছি, উনি ৫৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছেন।”
এর মাধ্যমে তিনি মূলত কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার প্রতি ইঙ্গিত করেন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান আমির হামজার অবমাননাকর মন্তব্যের সমালোচনা করতেন।
এ পর্যায়ে স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনাকে কি কেউ এই ধরনের উক্তিতে সম্বোধন করেছেন? এরকম তো সংসদে কেউ বলে নাই।” জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, “না করেছে।” স্পিকার পুনরায় বলেন, “আপনি কেন নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন?” ফজলুর রহমান তখন জোর দিয়ে বলেন, “করেছে।”
মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াত প্রসঙ্গ 

স্পিকার তাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তিনি জামায়াতে ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, “আচ্ছা, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন— উনি মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলাম করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছেন।”

তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়। স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দকে বলতে দেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ আপনারা শৃঙ্খলা রক্ষা করুন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।”

ফজলুর রহমান আবারও বলেন, “আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।”

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনার বিরোধিতা করে ফজলুর রহমান বলেন, “আমি বলব, এই কথাটা বলাই অন্যায়। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করা।”

ফজলুর রহমান বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, “তারা বলেছিল, কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সেই দিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এই আলবদরের বাচ্চারা, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমান জীবিত আছে। মুক্তিযুদ্ধ হইছে, মুক্তিযুদ্ধই সত্য। ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য। আমরা সেদিন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম।”

তিনি বলেন, “অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হইছে। সেই ইলেকশনে তারা কী করেছে? আজকে যারা আমার ডান দিকে (বিরোধী দল) বসে আছে, তারা কী করেছে? তারা যা করেছে, সেটা কল্পনা করার মতো না। সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল, দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে তারা পাস করবে। আমি ফজলুর রহমান বলেছিলাম, জামায়াত জোট যদি দুই-তৃতীয়াংশ পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। তারা কখনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে না, রাজনৈতিক যুদ্ধে। তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই। যত দিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকবে, তত দিন মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন জয়লাভ করতে পারবে না।”

এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে ফজলুর রহমান স্পিকারের কাছে আরও পাঁচ মিনিট সময় চান। স্পিকার তিন মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।

 

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

সংসদ সদস্যদের হট্টগোল থামছে না দেখে স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, এক সেকেন্ড, এক সেকেন্ড। মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান বসেন, বসেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আশা করছি, বসুন। সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।”

ফজলুর রহমান বলেন, “আমি কিন্তু উনাদেরকে খারাপ কিছু বলি নাই।” স্পিকার আবারও বলেন, “বসেন মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান, আপনি একটু অপেক্ষা করুন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ প্লিজ সিট ডাউন, প্লিজ সিট ডাউন। আমি বলছি প্লিজ সিট ডাউন।”

প্রতিবাদী সদস্যদের আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান বলেন, “এই যে দেখেন তারা, তারা কী ধরনের আচরণ করছেন আজকে!”

তখন স্পিকার সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, একটু মনোযোগ দিয়ে আমার কথাটি শোনার চেষ্টা করুন। মাননীয় সদস্য গাজী ইসলাম বসুন। মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান একটু ওয়েট করেন। একটু অপেক্ষা করুন।” তখন ফজলুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের নেতা জিয়াউর রহমানকে পেলে এরা হত্যা করতো ষোলই ডিসেম্বর আগে।”

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে স্পিকার তাঁকে বলেন, “মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, বসুন। আমি বললে তারপর আপনি বলুন।”

পরে স্পিকার ফজলুর রহমানকে তিন মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ করেন।

সবাইকে সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান, অপেক্ষা করুন। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। দয়া করে বসুন। মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আমি বলি তারপর আপনি বলেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে, লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বলি যে, ‘রুলস অফ প্রসিডিউর’ বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না।”

স্পিকার বলেন, “প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। যদি সরকারি দলের কোনও সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা এরপরে তার বিরুদ্ধে যুক্তি খণ্ডন করুন। কিন্তু শিশুরাও লজ্জা পাবে এই ধরনের আচরণে। ফজলুর রহমান সাহেব যা বলেছেন, এরপরেই আপনাদের একজনকে টাইম দেবো। জনাব সদস্য ফজলুর রহমান, আপনি তিন মিনিটে আপনার বক্তব্য শেষ করেন।”

 

যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যু 

বক্তব্য পুনরায় শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুতে কথা বলেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “১৯৭১ সনের ১৪ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউসে প্রস্তাব হয়েছে— তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাস ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নেই।”

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের পক্ষেও মত দিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার ছিলাম, ১৬ ডিসেম্বরের পর শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমি কাউকে হত্যা করি নাই, সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে এত থানা লুট হয়েছে, পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে, তখন তো পুলিশ যুদ্ধ করে নাই, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার নেতা। ৫ আগস্টের পরে এত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো কোনো আইনে দায়মুক্তি হওয়ার কথা নয়। ৫ আগস্টের পরে পুলিশ হত্যা হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।”

 

প্রধানমন্ত্রীকে সতর্কবার্তা

শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এক সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “সর্বশেষ কথাটি হলো, আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি যাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। দেশের ভেতরে যতই চক্রান্ত হোক, আমার নেতা সংসদ নেতা অনেক মহান কাজ করেছেন। ৭৮ জনকে ২২২ জনের সমান সমান ভাগ দিয়ে কমিটি করেছেন। আমি আমার নেতাকে বলবো, তার মা কিন্তু একসঙ্গে দুধ খেয়েছেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ কিন্তু এক না। মোহাম্মদী বেগ কিন্তু সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল। এই কথাটি বলেই আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।”

 

বিরোধীদলীয় নেতার জবাব

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান সবকিছু বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। বলেই তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে? আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।”

জামায়াতের আমির বলেন, “আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছে। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছে।”

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ এক্সপাঞ্জ বা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

শফিকুর রহমান বলেন, “এই সংসদকে ফাংশনাল করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট যেটাই বলি, সেই ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সাথে সাথে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি (ফজলুর রহমান) এইটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন রাখলেন কী দিয়ে? যাঁর মগজ যে রকম, তাঁর কনক্লুশন সে রকম। তাঁর মতো একজন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে, রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করি না।”

পরে ফজলুর রহমান আবার বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাঁকে ফ্লোর না দিয়ে বলেন, “এখন আর তো না বললেও চলে। আমরা সংসদ উত্তপ্ত হোক এ রকম চাই না।”

স্পিকার আরও বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হবে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যেও যদি অসংসদীয় কিছু থাকে, সেটিও এক্সপাঞ্জ করা হবে।

You may also like