পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল ৩টার পর এই জ্বালানি লোড করা শুরু হয়। এর আগে সেখানে উদ্বোধনী প্রতিনিধিদল হেলিকপ্টারযোগে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। তাদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হলো
বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন যমুনা টেলিভিশনের পাবনা প্রতিনিধি কলিট তালুকদার। তিনি উদ্বোধনী ও জ্বালানি লোডিং স্থানেই উপস্থিত আছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক (ডিজি) অ্যালেক্সি লিখাচেভ।
বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে রাশিয়ার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উৎপাদনে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের ডিজির সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারে।
জানা যায়, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। এ সময় বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ চলবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্র পুরোপুরি চালি হলে এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।
এর আগে ১৬ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরুর কমপক্ষে তিন মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।