সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অব্যবহৃত সরকারি জমি দেয়া হবে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে, জানান মন্ত্রী

by নিজস্ব প্রতিবেদক
Published: Updated:

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার পাওয়ারকে (সৌর বিদ্যুৎ) সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে অব্যবহৃত সরকারি জমি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র

তিনি বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। আমরা ধাপে ধাপে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”

সোমবার রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এসব জমির তালিকা তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ফলে সৃষ্ট খাস জমিও এই উদ্যোগের আওতায় আনা হবে।

আরো পড়ুনঃ জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মেয়াদ ৩০ দিন

তিনি বলেন, “দেশে বিপুল পরিমাণ জমি বিভিন্ন সংস্থার অধীনে পড়ে আছে, যেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিশেষ করে রেলওয়ে বিভাগের অনেক জমি অব্যবহৃত রয়েছে। আমরা এসব জমি বিনিয়োগকারীদের জন্য কাজে লাগাতে চাই।”

সৌর বিদ্যুৎকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় জমি ও সুবিধা দেবে এবং বৃহৎ পরিসরে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন ও মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রণোদনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ট্যাক্স সুবিধাসহ বিভিন্ন ইনসেন্টিভ দিলে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় শিল্প খাতে ট্যাক্স ছাড় দেওয়ার ফলে দেশে গার্মেন্টস খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছিল।

বর্তমান বিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের বকেয়া, ডলার সংকট এবং জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। অতীতে কিছু নীতিগত ভুল সিদ্ধান্ত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো বিদ্যুৎ খাতে রয়ে গেছে।

আরো পড়ুনঃ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হচ্ছে আজ

এদিকে, দেশে শিল্প পর্যায়ে সৌর বিদ্যুৎ উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে পিপিপি মডেলে বড় পরিসরে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংকট শিল্প পর্যায়ের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় বাধা ছিল। এই সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যার আওতায় ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য সরকারি জমি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে জমি পুনরায় সরকারের কাছে ফিরে আসবে।

তিনি আরো জানান, ফেনীর সোনাগাজীতে প্রথম পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অব্যবহৃত জমির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

বিডা আশা করছে, সরকারের অংশীদারিত্ব থাকায় ব্যাংক অর্থায়নের জটিলতা কমবে এবং বৃহৎ (৫০ মেগাওয়াটের বেশি) সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এছাড়া ব্যাটারি অ্যানার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ প্রযুক্তিগত সহায়তায় নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

You may also like