বিগত কয়েকদিনে সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় আতংকিত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার তিনি বলেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।” তার এমন কথায় সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিন সোমবার বজ্রপাত নিয়ে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
সোমবার সকাল থেকে বিকালের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় পৃথক বজ্রপাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। এর আগে রবিবার সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ১৭ এপ্রিল মারা যান ১২ জন, যার মধ্যে পাঁচজনই সুনামগঞ্জের।
কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমার নির্বাচনি আসনে চারটি উপজেলা হাওড় বেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের নিমিত্তে সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওড়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জ হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়।”
আরো পড়ুনঃ বজ্রপাতে ৯ কৃষকসহ ১২ জনের মৃত্যু
তিনি আরও বলেন, বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখনো পর্যাপ্ত কার্যকর কর্মসূচি, সঠিক পরিসংখ্যান, বজ্রনিরোধক যন্ত্র বা আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় হাওড় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তার বক্তব্যের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সাম্প্রতিক কয়েক বছর যাবৎ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর গবেষণাও চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি যাতে বজ্রাঘাতে গবাদিপশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পায়।”
এর পর পরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাস্যরসাত্মক মন্তব্যটি করেন।