গত সপ্তাহ থেকে নিখোঁজ থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে লিমনের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। আর বৃষ্টির লাশ পাওয়া যায় শনিবার।
এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করেছে শেরিফ অফিস। গ্রেফতার হিশাম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
নিহত লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন।
লিমন, ২৭, ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী।
হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়া করতেন।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর লিমনের লাশ খুঁজে পায়। তার বিরুদ্ধে মারধর ও শারীরিকভাবে আঘাত করা, জোর করে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, মৃত্যুর ঘটনা না জানানো এবং মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
গ্রেপ্তারের সময় হিশাম তাঁর পারিবারিক বাড়ির ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোয়াট দল এবং সংকট পরিস্থিতিতে আলোচক দলকে ঘটনাস্থলে আসতে হয়।
২০২৩ সালে হিশামকে তার ভাইয়ের করা পারিবারিক সহিংসতার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুইবার গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া আদালত তাঁকে ওই বাড়িতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। তখন হিশাম তার ভাই ও মায়ের ওপর আক্রমণ করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল টাম্পায় দেখা গিয়েছিল। সেদিন লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাঁর ছাত্রাবাসে।
অন্যদিকে বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায় সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসিসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁদের এক পারিবারিক বন্ধু পরদিন ১৭ এপ্রিল বিকেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় এবং অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তির ডেটাবেজে দুজনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী বৃষ্টির পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।