মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার আলোচকদের পাকিস্তানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর তেহরান এই অবস্থান জানায়।
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ একটি বড় অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রোববার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি আটক করে।
তেহরান জানিয়েছে, তারা এর জবাব দেবে। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের জাহাজ আটক হওয়ার পর দেশটি মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোর দিকে ড্রোন পাঠিয়েছে।
রোববার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ইরানি সূত্রের বরাতে জানায়, “ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরবর্তী দফায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।”
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশী জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে ইরানকে অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
এর আগে ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থা অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানায়, “সামগ্রিক পরিবেশ খুব ইতিবাচক বলা যায় না” এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের “অযৌক্তিক ও অবাস্তব দাবির” কারণে “এই পরিস্থিতিতে ফলপ্রসূ আলোচনার কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা নেই।”
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল- এই তিন পক্ষ বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা সাময়িকভাবে থামাতে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়।
এ পর্যন্ত মাত্র এক দফা ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়, যা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। তবে এরপর নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল।
ট্রাম্প রোববার এক বার্তায় বলেন, “আমরা একটি খুবই ন্যায্য ও যুক্তিসংগত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি, আশা করি তারা তা গ্রহণ করবে।” একই সঙ্গে তিনি চুক্তি না হলে ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।