প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্থানীয় কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, বগুড়ার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া রেলপথের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। নবঘোষিত সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন, খবর বাসস-এর।
সোমবার বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এ সময় জনসভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুনঃ দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় আগমন উপলক্ষে এই জনসভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি। দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বিকাল ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উত্তরবঙ্গজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বগুড়াসহ আশেপাশের অনেকগুলো অঞ্চল কৃষি প্রধান অঞ্চল। আমরা চাই আমাদের কৃষিজাত পণ্য দেশে যেমন থাকবে বিদেশেও রপ্তানি হবে। আমি এর মধ্যেই কাজ শুরু করেছি কীভাবে এই যে আমাদের বিমানবন্দরটি আছে এখানে কার্গো বিমান কীভাবে আসতে পারে এবং আমাদের উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি প্রকৌশলী বিষয়গুলোকে কীভাবে আমরা যুক্ত করতে পারি শিগগিরই আমি সেই কাজ শুরু করবো।”
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে তার প্রত্যেকটি কাজ শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।”
আরো পড়ুনঃ স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “স্বল্প খরচে দেশের তরুণ সমাজের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই আপনারা সুখবর পাবেন। এ ছাড়াও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিখ্যাত ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আমরা আবার দেশব্যাপী শুরু করবো। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, যাতে কৃষকের ফসল রক্ষা পায় ও খরা মৌসুমে পানির অভাব না হয়।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবসময় বলি, আমরা যা করবো স্বচ্ছভাবে করবো, কোনো লুকোচুরি নেই। গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের উন্নয়ন।”
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। ২০০৬ সালের পর এটিই তার প্রথম বগুড়া সফর।
দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ আদালতে নবনির্মিত ভবন ও “ই-বেইলবন্ড” কার্যক্রমের উদ্বোধন, এরপর বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের নামফলক উন্মোচন শেষে গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।