ভাটারা-হেমায়েতপুর মেট্রোরেলের নর্দার্ন রুট চালু হতে পারে ২০২৩ সালে

হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং প্রায় ৭৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে

by নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ভাটারা এলাকা থেকে শহরতলির হেমায়েতপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, নতুন রুটের উন্নয়ন কাজ ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত এবং ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ ও ভূমির উঁচুতে (এলিভেটেড) রুট নির্মাণের কাজ চলছে, খবর বাসস-এর।

তিনি বলেন, বর্তমানে হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং প্রায় ৭৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রুটটি ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এদিকে মূল ট্র্যাক ও স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, “নর্দার্ন রুট” নামে পরিচিত এই রুট হবে ঢাকার প্রথম পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল। এতে ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি ভূগর্ভস্থ। প্রতিদিন ১২.৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করার লক্ষ্য রয়েছে।

ভাটারা থেকে সাভারের কাছে হেমায়েতপুর পর্যন্ত যাত্রা সময় হবে মাত্র ৩২ মিনিট। বর্তমানে জটিল সড়ক নেটওয়ার্ক ও যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে।

প্রতিটি বৈদ্যুতিক চালিত মেট্রো ট্রেন ৩,০৮৮ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম হবে এবং প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৫৩,২০০ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। মোট ২০ কিলোমিটার রুটের মধ্যে ১৩.৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ।

আরো পড়ুনঃ ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে সরকার

ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলো নির্মিত হবে গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুখেত, বনানী, গুলশান-২ এবং নতুনবাজারে। এলিভেটেড স্টেশনগুলো হবে হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার এবং ভাটারায়।

কর্মকর্তারা জানান, হেমায়েতপুর ডিপোর মৌলিক নকশা ও জমি অধিগ্রহণ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

সরকার ও বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় হবে ৪১,২৩৮.৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৯,১১৭.০৫ কোটি টাকা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সহায়তা হিসেবে দেবে এবং ১২,১২১.৫০ কোটি টাকা সরকার বহন করবে।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, “আমরা নির্মাণকাজ ও যন্ত্রপাতির মানের বিষয়ে কোনো আপস করব না। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে যাতে দূষণ ও শব্দদূষণ এড়ানো যায়।”

তিনি আরও জানান, রুটের এলিভেটেড অংশে শব্দ ও কম্পন নিয়ন্ত্রণে রাখতে “কন্টিনিউয়াস ওয়েল্ডেড রেল” (সিডব্লিউআর) ব্যবহার করা হবে এবং উভয় পাশে সাউন্ড ব্যারিয়ার ওয়াল নির্মাণ করা হবে।

You may also like