আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সায়ের লিখেছেন, বাংলাদেশের নেট ইকুইটি ইনফ্লো ২০২৫ সালে কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখেনি। এটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৪.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় মাত্র ১.৮ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেছেন, ২০২৪ সাল ছিল গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার বছর। এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো বিনিয়োগের সম্ভাব্য পাইপলাইনের পতন। ইকোনমিক রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যা বছরওয়ারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ কমে গেছে। এই ফরওয়ার্ড-লুকিং সূচকটি ইঙ্গিত দেয় যে, ২০২৪ সালে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক ওয়েট-অ্যান্ড-সি মনোভাব ২০২৫ সালে এসে স্পষ্টভাবে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।
আরো পড়ুনঃ হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, খরচ কমানোর আশ্বাস
অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, বিডার চেয়ারম্যান হিসেবে আশিক চৌধুরীর ১৮ মাসের দায়িত্বকালে এফডিআই-এর দুর্বল অবস্থার একটি উদাহরণ বিষয়টিকে আরও পরিষ্কার করে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একটি বিদেশি রোল-আপ ফান্ডের প্রধান সিদ্ধান্তগ্রহণকারী আশিকের সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠক করেন। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা উচিত, আশিক উত্তরে বলেন—তারা বিনিয়োগ করলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।
তিনি আরো লেখেন, একজন বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত বিনিয়োগকারীর জন্য এই বক্তব্য কতটা অপ্রাসঙ্গিক ছিল, তা বোঝা যায় তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া থেকেই—”আমি কি এখানে দাতব্য কাজ করতে এসেছি?” উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর জন্য সংরক্ষিত কথাবার্তা একজন বেসরকারি বিনিয়োগকারীর সামনে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক—বিশেষ করে এমন একজনের কাছ থেকে, যিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকার হিসেবে পরিচয় দেন এবং দেশের সেবায় বিদেশের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন।
“এরপর বিনিয়োগকারী জানতে চান, বাংলাদেশের নিম্ন ক্রেডিট রেটিং বিবেচনায় তারা কি তাদের হোল্ডিং কোম্পানি পর্যায়ে ঋণ নিয়ে সেটি বাংলাদেশে প্রস্তাবিত অপারেটিং কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন কি না। আশিক জবাব দেন—এটি সম্ভব নয়। অথচ গত এক বছরে বিডা নিজেই এমন ঋণ অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে সর্বশেষ একটি উদাহরণ রাকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকও তাদের এফডিআই প্রতিবেদনে ইন্ট্রাকম্পানি ঋণের তথ্য প্রকাশ করে। যে বিষয়গুলোর জন্য তাকে এই পদে বসানো হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে তার এমন অজ্ঞতা বিস্ময়কর,” লেখেন তিনি।
সায়ের সমালোচনা করে লেখেন, বিডা ও বেজা আধুনিকায়নের ব্যাপারে তার নানা বক্তব্য থাকলেও, তিনি এখনো ৩০ বছর পুরোনো বিনিয়োগ সুরক্ষা আইনগুলো হালনাগাদ করেননি—যা তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল। বাস্তব সমস্যার সমাধানে মনোযোগ না দিয়ে তিনি বরং জাতীয় সম্পদ ও সময় ব্যয় করেছেন টিকটক ও ফেসবুক রিলসে জনপ্রিয়তা অর্জনের পেছনে।
এই পরিস্থিতিতে এমন একজন অযোগ্য ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা সত্যিই হতাশাজনক ও ক্ষোভজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি—বিশেষ করে যখন যোগ্য অনেক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান থাকবে—বাহ্যিক চাকচিক্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করুন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিনিয়োগ—কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে।