আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পশ্চিম অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কোহিনূর মিয়া (বিপি-৬৭১১০২০৯২১) তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি আবার সরকার গঠন করলে তিনি কয়েকটি মামলা থেকে খালাস পান।
এরপর রাষ্ট্রপতির বিশেষ নির্দেশনায় বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে গত ৯ মার্চ কোহিনূর মিয়াকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়; অপসারণের সময়কালকে চাকরি হিসেবে ধরে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
রবিবার (১২ এপ্রিল) এক প্রজ্ঞাপনে কোহিনূর মিয়াকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি-চতুর্থ গ্রেড) পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধিমোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতাদি এবং অন্যান্য সুবিধাদি পাবেন।
এই পদোন্নতি ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে বলে গণ্য হবে।
বিসিএস ১২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়।
আরো পড়ুনঃ জামিনে মুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী
২০০৬ সালের ১২ মার্চ ধানমন্ডির রাপা প্লাজার সামনে শাহিন সুলতানা শান্তা নামের এক নারী পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেদিন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় নিজের ছেলেকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে শান্তা ভয়ে পাশের একটি ক্লিনিকে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সদস্যরা তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার দুই দিন পর ২০০৬ সালের ১৪ মার্চ শান্তা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার কোহিনূর মিয়া ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়। এতে আপত্তি জানিয়ে শান্তা বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০০৯ সালে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন আদালত। তবে মামলার অভিযোগপত্র জমা দিতে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় লাগে এবং ২০২৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সম্প্রতি তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিলেও তাঁরা ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। এরপরই আদালত কোহিনূর মিয়াসহ তিনজনকে খালাস দেন।
এদিকে ২০০৪ সালের ৫ মে পৌরসভা নির্বাচনের সময় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলেও তদন্তে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় একাধিকবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
পরে ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া ওই ঘটনায় সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী, ময়মনসিংহের তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়া ও পৌর মেয়র আবদুস ছাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে ২০১১ সালে কোহিনূর মিয়া ও উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেন।