কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত “শামীম বাবার দরবার শরিফে” হামলার সময় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম
নিহত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম, ৬৫, ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলীর ছেলে। তিনি ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে একটি দরবার শরিফ গড়েন।
গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তত ১২০টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে কবর থেকে লাশ তুলে রাস্তায় এনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়িতে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত ও এনসিপি সহ উগ্রবাদী জনতা অংশ নেয় এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়।
পুলিশ জানান, ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। তখন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আরো পড়ুনঃ পাক বাহিনীর দোসর ‘জামায়াতে ইসলামী’র নাম রেখে অধ্যাদেশ পাস
স্থানীয় লোকজনের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে। শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামীমকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
এ সময় পীর শামীম ও তার তিন সহযোগীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “আহত অবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ”সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পীরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তাতে কোরআন নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য আছে। কিন্তু ভিডিওটি অনেক আগের। সেটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার মানুষ সেখানে হামলা চালান। শামীমকে পুলিশ উদ্ধার করলেও বিক্ষুব্ধ লোকজনের তুলনায় পুলিশ কম ছিল। এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্থানীয় লোকজন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা কীভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামনে আনলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।”