জুলাই শহিদ ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসন অধ্যাদেশ সংসদে পাস

বিল পাসের সাথে সাথে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এবং টেবিল চাপড়িয়ে স্বাগত জানান

by নিজস্ব প্রতিবেদক
Published: Updated:

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেয়ার দুইদিনের মধ্যে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপিত একটি বিল সব দলের সম্মতিতে পাস হলো।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দেন। তখন সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বলে বিলের পক্ষে সম্মতি দেন।

এরপরই স্পিকার বিলটি পাসের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ কক্ষ দীর্ঘস্থায়ী করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এবং টেবিল চাপড়িয়ে এই ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।

মাইক ছাড়াই অনেকে এটিকে ‘বিপ্লবের আইনি স্বীকৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। সরকারের দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ১৭ জুন এই অধ্যাদেশটি জারি করে। এর আওতায় পরিবারগুলোকে এককালীন অর্থ সহায়তা,মাসিকভাতা, চিকিৎসা খরচ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিতে কোটাসহ আবাসন সুবিধা দেয়া হয়।

অন্যদিকে দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা যাবে না। তবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন তদন্ত করবে। তবে শর্ত হলো, যদি হত্যার শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সদস্য হন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নিতে হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।

You may also like