ইসরায়েল কর্তৃক লেবাননে অব্যাহত হামলা এবং সেখানে দায়িত্বরত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের (ইউনিফিল) হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের অন্তত ৬৩টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশের তালিকায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের নাম নেই।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীর সদস্য ও নেতাদের ওপর ‘অগ্রহণযোগ্য ও আগ্রাসী আচরণের’ কঠোর সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত উমর হাদি এই যৌথ বিবৃতিটি পাঠ করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে ইন্দোনেশিয়ার তিন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
আরো পড়ুনঃ লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা সীমিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে এই হামলার জন্য সরাসরি কোনও পক্ষকে চিহ্নিত করা হয়নি। যদিও জাতিসংঘের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিরক্ষী নিহতের দুটি ঘটনার জন্য ইসরায়েল এবং একটির জন্য হিজবুল্লাহ দায়ী।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ইউনিফিলের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান সংঘাত নিরসনে সব পক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
উমর হাদি বলেন,আরও অনেক দেশ নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে সাক্ষর করবে।
আরো পড়ুনঃ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত ইরান
২০২৬ সালের শেষে ইউনিফিল মিশন বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর সম্প্রতি চাপ সৃষ্টি করেছিল ওয়াশিংটন।
এর আগে বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের সেদিনের ব্যাপক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এই হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মঙ্গলবার বলেছে যে, ২৯ ও ৩০ মার্চ পৃথক দুটি ঘটনায় তিনজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীর মৃত্যুর বিষয়ে তাদের তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে যে, একজন ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে এবং দুজন সম্ভবত হিজবুল্লাহর স্থাপন করা একটি হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে নিহত হয়েছেন।