তিন মাসের জন্য বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়ে তামিম ইকবাল দুটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন— বিসিবির ‘হারানো’ সুনাম ফিরিয়ে আনা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। এই দায়িত্বে তিনি কতটা সফল হবেন, তা সময়ই বলে দেবে।
অন্যদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে তিন মাসের অ্যাডহক কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেয়। এনএসসির ঘোষণার পর আমিনুল ইসলাম, নাজমূল আবেদীন ও খালেদ মাসুদসহ অন্য পরিচালকরা বিসিবি ভবন ছেড়ে চলে যান।
এরপরই তামিম বিসিবি কার্যালয়ে গিয়ে সভাপতির চেয়ারে বসেন।
সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তামিম বলেন, “সাধারণত এ ধরনের দায়িত্ব পেলে অনেকে ডেভেলপমেন্টসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমি ও আমার দল মনে করি, আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম পুনরুদ্ধার করা। গত দেড় বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা ঠিক করাই আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।”
আরো পড়ুনঃ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নেতৃত্বে তামিম ইকবাল
তামিম আরও বলেন, “আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত এবং যতটা সম্ভব সৎ ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে।” তিনি জানান, অ্যাডহক কমিটির যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। নিজের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঘোষিত ১১ সদস্যের কমিটির অন্যরা হলেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পরিবারতন্ত্র নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইসরাফিল খসরু অর্থমন্ত্রীর ছেলে, ইব্রাহিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে, ইয়াসির মির্জা আব্বাসের ছেলে, ফাহিম সিনহা সাবেক মন্ত্রীর ছেলে এবং রাশনা ইমাম প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
আমিনুলের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
পদ হারিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল নিজেকে বিসিবির ‘একমাত্র বৈধ সভাপতি’ দাবি করে বলেন, এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদন ‘ত্রুটিপূর্ণ ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এনএসসির তদন্ত তার এখতিয়ারের বাইরে এবং এটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠনকে তিনি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর কোনো বৈধতা নেই বলে দাবি করেন।
আমিনুল সতর্ক করে বলেন, সরকারের এই হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে এবং বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা নষ্ট করবে। তিনি আইসিসিকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।