ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার চার ঘণ্টা পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়, খবর টাইমস অব ইসরায়েল-এর।
আরো পড়ুনঃ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত ইরান
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করেছিলেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর হবে। কিন্তু ইসরায়েল সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েলের শর্ত
ইংরেজিতে দেওয়া বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে। তবে এর জন্য ইরানকে দুটি শর্ত পূরণ করতে হবেঃ অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরান যেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, তার আরব প্রতিবেশী এবং বিশ্বের জন্য পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদী হুমকি হয়ে না থাকে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল সমর্থন করে।“
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল দুই সপ্তাহের জন্য নিশ্চিত করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পর তেহরানের রাস্তায় উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ ইরানি পতাকা উড়িয়ে উদযাপন করছেন। ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে চলা তীব্র হামলার পর এই যুদ্ধবিরতি সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ৯৪.৫৯ ডলারে নেমেছে, আর ব্রেন্ট ক্রুড ১৫ শতাংশ কমে ৯২.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ার বাজারেও উন্নতি হয়েছে—জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ৬ শতাংশ বেড়েছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে মানুষ এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আজ বুধবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৪০তম দিনের স্মরণ অনুষ্ঠানও এই শান্তির ঘোষণার সঙ্গে মিলে গেছে, যা জনমনে নতুন আশা জাগিয়েছে।
এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুধু সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্ববাসী এখন আশা করছে যে, ইসলামাবাদের আলোচনা সফল হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।