মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হবে।
এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল দুই সপ্তাহের জন্য নিশ্চিত করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পর তেহরানের রাস্তায় উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ ইরানি পতাকা উড়িয়ে উদযাপন করছেন। ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে চলা তীব্র হামলার পর এই যুদ্ধবিরতি সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ৯৪.৫৯ ডলারে নেমেছে, আর ব্রেন্ট ক্রুড ১৫ শতাংশ কমে ৯২.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ার বাজারেও উন্নতি হয়েছে—জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ৬ শতাংশ বেড়েছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে মানুষ এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আজ বুধবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৪০তম দিনের স্মরণ অনুষ্ঠানও এই শান্তির ঘোষণার সঙ্গে মিলে গেছে, যা জনমনে নতুন আশা জাগিয়েছে।
এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুধু সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্ববাসী এখন আশা করছে যে, ইসলামাবাদের আলোচনা সফল হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আহ্বানের পর ট্রাম্প এই অবস্থান জানান। তিনি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখবে। এটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি হবে।
হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিতে বড় বিজয় ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দুয়ার
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর দৃঢ় পদক্ষেপের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। মাত্র ৩৮ দিনে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ছাড়িয়ে গেছে। এই সাফল্য কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুলে দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে তারা এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে। তারা আশা করছে, যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয় রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আরও সুসংহত করা যাবে।
লেবানন থেকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দিকে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। যদিও এখনও কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবু এই চুক্তি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।