কয়লার তীব্র অভাব ও উচ্চমূল্যের কারণে দেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। গত কয়েকদিন ধরে এই কেন্দ্রটি মাত্র ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রেখেছে, যেখানে এর সক্ষমতা ১,১৫০ মেগাওয়াট।
এর আগে পটুয়াখালীর ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কয়লার সংকটের কারণেই এই বন্ধ অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর বেশি নির্ভর করার চেষ্টা করলেও, মাতারবাড়ি ও পটুয়াখালীর মতো বড় কেন্দ্রগুলো উৎপাদন করতে না পারায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল ও পায়রাসহ অন্য কয়েকটি কেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে চললেও এই দুটি বড় কেন্দ্রের সমস্যায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিংয়ের কারণে সামনের দিনে কৃষি ও শিল্প খাত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কয়লার উচ্চমূল্য ও সরবরাহ সংকটের কারণ
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত কয়লার দাম বেড়েছে এবং রপ্তানি সীমিত করা হয়েছে। দেশটি নিজেদের চাহিদা পূরণের পরই কেবল রপ্তানি করছে এবং স্পট মার্কেটে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। যেসব কেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নেই, তারা চরম সংকটে পড়েছে। পটুয়াখালী কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এটিই মূল কারণ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন মাতারবাড়ি কেন্দ্র চালাতে সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়লার অভাবে পূর্ণ লোডে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ৫ এপ্রিলেও এটি সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পেরেছে।
গ্রীষ্মে চাহিদা বাড়ছে, লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা বাড়ছে
গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বড় বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঢাকা ছাড়া সারাদেশেই লোডশেডিংয়ের খবর আসছে। তাপমাত্রা আরও বাড়লে এবং এই সংকট সমাধান না হলে লোডশেডিং আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিচালনায় দক্ষতার অভাব এবং অগ্রিম পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেও এই সংকট তৈরি হয়েছে। একই দেশ থেকে কয়লা আমদানি করে অন্য কেন্দ্রগুলো চলতে পারলেও এই দুটি কেন্দ্র কেন পারছে না— এ নিয়ে সরকারের তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বর্তমানে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বড় কেন্দ্রগুলোর সমস্যা দ্রুত সমাধান না করলে আসন্ন গ্রীষ্মে জনগণকে আরও বেশি ভুগতে হবে।