প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে ফেসবুকে কটু মন্তব্য করায় গ্রেফতার জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা বেগম সুমিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায় (মিঠু) তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলা আদালত পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাছির উদ্দিন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল কাজী মো. হারুন অর রশিদ।
কোর্টহাজত থেকে বের হওয়ার সময় সওদা বেগমকে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা স্লোগান দেন। তাঁর জামিন না হলে, আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান কাজী মো. হারুন অর রশিদ।
আদালতের আদেশের পর দলের আমির শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বোন সাওদা সুমি মুক্ত।’
এর আগে আজ সংসদে দেয়া ভাষণে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম “অফিস টাইমের মধ্যেই”সাওদা সুমিকে মুক্তির দাবি তোলেন। তিনি বলেন, হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
রোববার রাতে জ্বালানি সংকট নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ভোলা পৌরসভার নিজ বাসা থেকে সাওদা সুমিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা শাখা। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ভোলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জমজম টাওয়ারের বাসা থেকে রবিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে আটক করা হয়। দলের নেতারা অভিযোগ করেন, মতপ্রকাশের কারণে কাউকে আটক করা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁরা দাবি করেন, সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একজন নারী কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
সেক্রেটারি জেনারেলঃ অন্যায় ও মানবাধিকারের পরিপন্থী
এদিকে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কর্মী সাওদা সুমিকে গ্রেফতার করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
৭ এপ্রিল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাওদা সুমি সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস প্রদান করায় তাঁকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক, নিন্দনীয় এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
“আমি এই গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলেই কাউকে গ্রেফতার করা স্বাধীন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।“
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমাগতভাবে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। জামায়াতের নারী কর্মী সাওদা সুমির গ্রেফতার সরকারের দমনমূলক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের গ্রেফতার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলবে এবং জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।
এছাড়াও তিনি দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী সমাজ, সাংবাদিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। “নারী অধিকার নিয়ে যে সব তথাকথিত প্রগতিবাদী নারী সংগঠন অহর্নিশ মুখে ফেনা তোলেন তারা এখন নীরব কেন?”
তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও দমনপীড়ন চালিয়ে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর দায় সরকারকেই নিতে হবে।