শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬

সরকারের হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

by নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যালবিনো জাতের ভাইরাল মহিষ “ডোনাল্ড ট্রাম্পকে” শেষ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে ক্রেতার কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে আবার নারায়ণগঞ্জের খামারে নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (২৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মহিষটিকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে টাকা ফেরত দিয়ে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটিকে আগের মতোই খামারে লালন-পালন করা হবে।

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো মহিষটি নিয়ে প্রথম আলো ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মহিষ “ডোনাল্ড ট্রাম্প”।

ভাইরাল হওয়ার পর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মহিষটি দেখতে খামারে ভিড় করেন। দেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি রয়টার্স, এএফপি, নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ও গালফ নিউজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এর সাদা লোম ও চুলের ধরন অনেকের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মনে হওয়ায় নাম রাখা হয় “ডোনাল্ড ট্রাম্প”।

আরো পড়ুনঃ ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

এর আগে সোমবার বিকেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহিষটিকে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করে রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। লাল গালিচা, রঙিন স্মোক ও বিশেষ সাজে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয় মহিষটিকে। পরে রাজধানীর জিনজিরা এলাকার ক্রেতা সামির সেটিকে ঢাকায় নিয়ে যান।

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি বিক্রি করা হয়। চার বছর বয়সী এই মহিষটির ওজন ছিল প্রায় ৬৯০ কেজি।

বিকেল চারটার দিকে কেরানীগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মনিরুজ্জামানের বাড়িতে উপস্থিত হন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, “ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মহিষটি কোরবানি করা যাবে না। এটিকে আপাতত থানায় নিয়ে যেতে বলেছে।“

পরে মনিরুজ্জামান মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় পৌঁছে দেন।

এরপর মহিষকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেওয়ার বিষয়ে জানা যায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব কে এম নাজমুল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এই মহিষটি নিয়ে মানুষের মনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া এটি একটি “রেয়ার ব্রিড” হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে সংরক্ষণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হক বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত পশুটি কিনে নিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রাণীটির যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।“

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর চিকিৎসক মো. আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মূলত নামের কারণে সাড়া ফেলা এ মহিষটিকে গ্রহণ করার জন্য চিড়িয়াখানায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মূল ফটকে জীবাণুনাশক ছিটানো, বড় একটি শেডে রাখার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিষটিকে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। কোনো অসুখ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

আতিকুর রহমান জানান, এ মহিষটিকেও ছোলা, ভুট্টা খাওয়ানো হবে, তবে পরিমাণে একটু বেশি লাগবে।

মহিষটির বিশেষ এই রঙের কারণ ব্যাখ্যা করে আতিকুর রহমান বলেন, ইন ব্রিডিং (একই বংশের মধ্যে প্রজনন) হলে এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিড়িয়াখানায় চারটি বাঘের মধ্যে তিনটি বাচ্চা বাঘ এমন সাদা হয়েছে। শরীরে রঞ্জক পদার্থ ম্যালানিন কম থাকলে মহিষের ক্ষেত্রে কালো না হয়ে সাদা হবে। প্রতি ১০ হাজারের মধ্যে একটি এমন হতে পারে।

চিড়িয়াখানায় রাখার জন্য মহিষটি সরকার নিচ্ছে। বিনিময়ে তাদের কী দেওয়া হবে—এ প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান বলেন, “সরকার বলেছে, আমাদের যা দাম আছে, সে টাকা দিয়া দেবে, নইলে কোরবানির জন্য গরু দিয়া দেবে।“

You may also like