বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) এসএম লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে সংস্থাটির কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে। কর্মচারীরা বেবিচকের চিহ্নিত যেসব কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি করে আসছেন— তাদের মধ্যে লাবলু রহমানও আছেন। কর্মচারীদের দাবির মুখে অনেক কর্মকর্তা প্রত্যাহার হলেও এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে তিনি। তাকে প্রত্যাহার না করা হলে এই ক্ষোভ আবারও দানা বেঁধে উঠবে।
এছাড়া বেবিচকের প্রকৌশলীদের একের পর এক হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির হুমকির কারণে এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় এরই মধ্যে লাবলু রহমানের বিরুদ্ধে উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বেবিচকের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বেবিচকের উন্নয়ন কাজের বিল আটকে রেখে ঘুষ নেওয়া এই কর্মকর্তার প্রকাশ্য ঘটনা। আবার পছন্দের ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতে বেবিচক প্রকৌশলীদের নানাভাবে হয়রানি করান তিনি। অতি সম্প্রতি একজন সহকারী প্রকৌশলীকে নিজের অফিসে ডেকে নিয়ে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন লাবলু রহমান। এ নিয়ে বেবিচকজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
নাম প্রকাশ না করে ওই সহকারী প্রকৌশলীকে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মূল্যায়ন প্রতিবেদন একটি গোপন বিষয়। এটি কোনও ঠিকাদারকেই দেওয়া হয় না। কাজের ওপর ভিত্তি করে ঠিকাদাররা বিল পান। কেউ যদি কাজের মান খারাপ করেন, তবে তার বিল মূল্যায়ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে আটকে দেওয়া হয়। পরে ওই কাজ সঠিকভাবে করার পর তার বিল পাস করা হয়।’
ওই সহকারী প্রকৌশলী আরও বলেন, বেবিচক সদস্যের (অর্থ) নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদার শরীফুল ইসলাম মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাবি করেন। কিন্তু তিনি সেটি না দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে সদস্য লাবলু রহমান তাকে হুমকি দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একইভাবে প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের নাজেহাল করে থাকেন তিনি। তার কথা না শুনলে নানাভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ নিজের পছন্দের ঠিকাদার শরিফুল ইসলামকে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেন।
কর্মচারীদের অভিযোগ— হাফিজুর রহমান নামে এক কর্মকর্তা বেবিচকের ‘সমন্বয় কর্মকর্তা’ হলেও তাকে নিজের ব্যক্তিগত ‘ক্যাশিয়ার’ বানিয়ে রেখেছেন লাবলু রহমান। বিভিন্ন বিল ভাউচার তার কাছে জমা দিতে হয়। এরপর ওই বিলের ওপর চলে দর কষাকষি। লাবলু ও হাফিজুর চক্রের চাহিদা মতো ঘুষ দেওয়া হলে বিল পাস করা হয়। অন্যথায়, দিনের পর দিন বিলের জন্য পাওনাদারদের ঘুরতে হয়। অভিযোগ আছে, অনেকে বাধ্য হয়ে ঘুষের টাকা দিয়ে বিল পাস করান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বয়ক হাফিজুর রহমান ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বেবিচকে লাবলু রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে আছেন।
আলফাজ উদ্দিন নামে এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন—‘লাবলু রহমানের ঘুষ লেনদেন বেবিচকে অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এখানে টাকা না দিলে কোনও বিলই পাস হয় না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘হাফিজের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়, এটা সবাই জানেন।’
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেন, সদস্য (অর্থ) লাবলু রহমানের এসব অপকর্মের কারণে উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত তাকে অপসারণ না করা হলে আবারও আন্দোলনে যাবেন বলে তারা বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে জানতে সদস্য (অর্থ) এসএম লাবলুর রহমানকে একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও সাড়া দেননি।
তবে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘আমার যতটুকু দায়িত্ব ততটুকু পালন করি। এর বাইরে আমি আর বেশি কিছু জানি না।’
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
#ইমরান আলী, বাংলা ট্রিবিউন।